কক্সবাজারে পাহাড়ে ৫০ হাজার পরিবারের ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস

বসতবাড়ি দখল ও মালামাল লুটের শংকায় আশ্রয়ে রাজি নয় মানুষ

কক্সবাজারে পাহাড়ে ৫০ হাজার পরিবারের ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস
ছবি: সংগৃহীত

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার, ২২ জুন।।একদিকে পাহাড়ে পাদদেশে মৃত্যু ঝুঁকি অপরদিকে বসতবাড়ী দখল ও মালামাল লুটের শংকায় নিরাপদ আশ্রয়ে যাচ্ছে না মানুষ।

কক্সবাজারে পাহাড়ে অবস্থান করছে ৫০ হাজার পরিবার। বৃষ্টিতে পাহাড় ধসের আশংকায় ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও তারা দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন। জমি বেদখল আর বসতবাড়ির মালামাল লুটপাটের শংকায় নিরাপদ আশ্রয়ে যেতেও রাজী নন বেশির ভাগ পরিবার। 
এ পরিস্থিতিতে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যেতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রচার প্রচারণা চালালেও বিভিন্ন অযুহাত  ও ভিন্ন যুক্তি রয়েছে অনেকের।
অসহায়ত্ব প্রকাশ করে অনেকেই সরকারিভাবে পূনবাসনের দাবিও জানিয়েছেন। 
তবে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেছেন, যারা সরকারের নির্দেশনা না মেনে ঝুকিপূর্ণভাবে পাহাড়ে বসবাস করছে তাদের সকল নাগরিক সুবিধা বন্ধ করা হবে। 
কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, বৃষ্টিতে নিরাপদে আশ্রয়ে আসাদের সরকারি সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। আর ভূমিহীন হলে সরকারের পক্ষে উদ্যোগ নেয়া হবে।
বনবিভাগের তথ্য মতে, কক্সবাজার জেলার ৮ উপজেলায় অনন্ত ৫০ হাজার পরিবার ঝুঁকিপূর্ণভাবে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করে। এরমধ্যে কক্সবাজার শহর ও আশে-পাশের এলাকায় রয়েছে অনন্ত ২০ হাজার পরিবার। যেখানে পাহাড়ের ঢালে ঝুঁকিপূর্ণ ঘর তৈরি করে বসতির দৃশ্য দেখা যায়। 

অবৈব দখল ও পাহাড় কেটে তৈরী হয়েছে এসব ঘর। কক্সবাজার শহর ও আশে-পাশের কলাতলী, হিমছড়ি, বাসটার্মিনাল, রুমালিয়ার ছড়া, মোহাজের পাড়া, ফাতের ঘোনা, সৈকতপাড়া, জেল গেইট, দরিয়ানগর সহ বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে চরম ঝুঁকি।
বৃষ্টিতে পাহাড় ধসে আশংকায় বরিবার রাত থেকে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড়ে প্রচারণা চালানো হচ্ছে । এসব ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে নির্ধারিত আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার আহবান জানানো হয়। কিন্তু এতে আশ্রয় কেন্দ্রে না যাওয়ার নানা আজুহাত রয়েছে বসবাসকারীদের।
কক্সবাজার শহরের বৈদ্যঘোনা এলাকায় বসবাসকারি পেকুয়ার বাসিন্দা আবদুল গফুর জানান, গত ২৫ বছর ধরে তিনি শহরে বসবাস  করছেন। খাজামঞ্জিল এলাকার পাহাড়ে অল্প জমি কিনেছেন ৫ বছর আগে। ওখানে পরিবার নিয়ে রয়েছেন তিনি। বৃষ্টিতে পাহাড়ে বসবাস ঝুঁকি থাকলেও ঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয়ে গেলে ঘর সহ জমি দখল করে নেয়ার শংকায় তারা নিরাপদ আশ্রয়ে যাচ্ছে না। 
একই এলাকার আমেনা খাতুন জানান, নিরাপদে আশ্রয় কেন্দ্রে গেলে ঘর চুরি করে মালামাল লুট করার শংকা রয়েছে। ইতোপূর্বে এলাকায় একটি চক্র অতিবৃষ্টির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মালামাল লুট করে । তাই ঝুঁকি জেনেও অন্যত্রে যেতে রাজী নন তিনি।
সরকারি তথ্যমতে, কক্সবাজারে পাহাড় ধসে গত ৫ বছরে মৃত্যু হয়েছে দেড় শতাধিক মানুষ। শুধু মাত্র গত বছর মৃত্যু হয়েছে ২১ জনের। এবার বৃষ্টির শুরুতেই রবিবার রাতে মহেশখালীতে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। 
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেছেন, যারা সরকারের নির্দেশনা নামে মেনে ঝুকিপূর্ণভাবে পাহাড়ে বসবাস করছে তাদের সকল নাগরিক সুবিধা বন্ধ করা হবে। এনিয়ে যদি কেউ অসৌজন্যমূলক আচরণ করে তাহলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। 
তিনি আরও জানান, পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। কক্সবাজার শহর ও আশে-পাশের এলাকা ছাড়াও সকল উপজেলায় পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে পর্যাপ্ত আশ্রয় কেন্দ্র। তাদের ওখানে যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে। বৃষ্টি আরো বাড়লে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষজনকে আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে বাধ্য করা হবে।