টেকনাফে আত্মস্বীকৃত ইয়াবা ব্যবসায়ী ছৈয়দের পরিবার ফের ইয়াবা কারবারে !

টেকনাফে আত্মস্বীকৃত ইয়াবা ব্যবসায়ী ছৈয়দের পরিবার ফের ইয়াবা কারবারে !
ছবিঃ সংগৃহীত

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার।। আবু ছৈয়দ (২৫)। আত্মস্বীকৃত ও আত্মসম্পর্ণকারী ইয়াবা ব্যবসায়ী। ইয়াবা ব্যবসা করে কোটিপতিও হন। সে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শিলখালী এলাকার বর্তমান মেম্বার সোনা আলীর ছেলে। ২০১৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আশায় পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করা কক্সবাজারের ১০২ জন ইয়াবা চোরাকারবারি মধ্যে মো. আবু ছৈয়দ ছিল সর্বকনিষ্ঠ ইয়াবা কারবারী। 

অভিযোগ ছিল, মো. আবু ছৈয়দ জেলে থাকলেও তার ছোট ভাই বাহারছড়ার জাহাজপুরা কমিউনিটি ক্লিনিকের ইনচার্জ মো. ফয়সাল ও তার পিতা সোনা আলী মেম্বার ইয়াবা কারবার চালিয়ে আসছিল। গত ২০২০ সালের শেষের দিকে আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসে।

স্থানীয়রা জানান, আত্মস্বীকৃত ইয়াবা কারবারী আবু ছৈয়দ কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে পুরনো ইয়াবা ব্যবসা ফের জড়িয়ে পড়ে। দ্বিগুন উৎসাহে তার ছোট ভাই ও পিতাকে দিয়ে পুরোদমে ইয়াবা ব্যবসা চালায়।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শিলখালী এলাকার মাদক কারবারী মো. ফয়সাল বিপুল পরিমাণ ইয়াবা সহ ঢাকা রমনা এলাকায় গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের হাতে সম্প্রতি গ্রেফতার হয়েছে। এঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তার বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ি থানায় মামলা দায়ের করা হয়। যাত্রাবাড়ী থানার মামলা নং- ৯২/২০২১,।জিআর মামলা নং- ৭০৫/২০২১। ইয়াবার চালান নিয়ে ঢাকায় গিয়ে হাত বদলের সময় ডিবি পুলিশের হাতে আটক হন মো. ফয়সাল। 

আটককৃত মাদক কারবারি মোহাম্মদ ফয়সাল (২২) টেকনাফের আত্মস্বীকৃত ও আত্মসম্পর্ণকৃত ইয়াবা কারবারী আবু ছৈয়দ এর ছোট ভাই ও বাহারছড়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ সোনা আলী ছেলে।
স্থানীয় সুত্রে আরও জানা গেছে, 
আটক মো. ফয়সাল মূলত গত আড়াই বছর ধরে টেকনাফ বাহারছড়া ইউনিয়নের জাহাজপুরা কমিউনিটি ক্লিনিকের ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সরকারী চাকরির আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা কারবারের সাথে সম্পৃক্ত ছিল। যার কারণে কমিউনিটি ক্লিনিকে দায়িত্ব পালনে ছিল চরম উদাসীন ও গাফেলতি। 

এই কমিউনিটি ক্লিনিকে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা, প্রজননস্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা সেবা, টিকাদান কর্মসূচি, পুষ্টি, স্বাস্থ্যশিক্ষা, পরামর্শ, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নিশ্চিত করণ, নবজাতকের অত্যাবশ্যকীয় সেবা প্রদানসহ বিভিন্নসেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছিল ওই এলাকার বাসিন্দারা।
স্থানীয় জনসাধারণ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হলেও ফয়সাল স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পর্যন্ত করেনি।

এদিকে, ফয়সালের আটকের খবরে এলাকায় মিশ্রপ্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আত্মসমর্পণকারী ইয়াবা ডন আবু ছৈয়দ জামিনে বের হয়ে গা ডাকা দিলেও তার ছোট ভাই সরকারি চাকরিজীবী ফয়সালসহ একটা বিশাল সিন্ডিকেট দিয়ে ইয়াবা পাচার কাজ চালিয়েছে। মূলত সরকারি চাকরিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ছোট ভাই ফয়সালের মাধ্যমে ইয়াবা পাচার করে আসছিল বলে অভিযোগ আত্মসমর্পণকারী আবু ছৈয়দের বিরুদ্ধে ।
২০১৯ সালে ইয়াবা কারবারী আবু ছৈয়দ প্রশাসনের টপ তালিকায় আসলে প্রাণ বাঁচাতে ১০২ ইয়াবা কারবারীর সাথে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেন। কিন্তু সেনাবাহিনীর অবসারপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যার পর থেকেই কক্সবাজার জেলার দৃশ্যপট পাল্টে যায়। আত্মস্বীকৃত ও আত্ম সমর্পণকারী ইয়াবা কারবারীরা জামিনে বেরিয়ে এসে অধিকাংশ কারবারী আবারো সেই পুরোনা পেশায় জড়িয়ে পড়ছে। তবে এবার কৌশল পরিবর্তন করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জমজমাট ভাবে চালিয়ে যাচ্ছে ইয়াবা ব্যবসা। ইয়াবা পাচার করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হলেই জানা যায় জেল থেকে জামিন পাওয়ারা এখনো কতটা সক্রিয় হয়ে পুরোদমে ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। ফয়সালও একইভাবে সিন্ডিকেটের সদস্য বলে জানায় স্থানীয় মহল। 

অন্যদিকে, ঢাকায় ডিবি পুলিশের হাতে আটক ইয়াবার চালান পুরনো এক রোহিঙ্গা নাগরিক বশরের বলে জনশ্রুতি রয়েছে। ছেলে ফয়সল আটকের পর স্থানীয় মেম্বার সোনা আলীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ছেলে ফয়সল আটক হয়েছে সেটা শুনেছি। অপরাধ করলেই অপরাধী। এ ধরনের অপরাধী ছেলেদের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই।