তাদের দৃঢ় সংকল্পের কাছে হার মেনেছে প্রতিবন্ধকতা

তাদের দৃঢ় সংকল্পের কাছে হার মেনেছে প্রতিবন্ধকতা
ছবি: তানভীর আহমেদ

তানভীর আহমেদ,জবি প্রতিনিধি।।দৃঢ় সংকল্পের কাছে প্রতিবন্ধকতা বাধা হয়েও যেন হার মেনেছে। অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর আকাশ ছোঁয়া স্বপ্নকে পূরণ করার প্রত্যয়ে সকল প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করেই তাইফুদ মেহমুদ চৌধুরী গুচ্ছের ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষায় অংশ নিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছেন । তিনি রাজবাড়ী থেকে মায়ের সঙ্গে আসেন। তাইফুদ নটরডেম কলেজ থেকে ৪.৯২ পেয়ে এইচএসসি পাস করেন। জন্ম থেকেই তাইফুদ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। শনিবার (১৩ আগস্ট) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে শ্রুতিলেখকের মাধ্যমে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন তিনি। পরিক্ষা শেষে বলেন, পরিক্ষা ভালো দিয়েছি। আশাকরি চান্স পাবো। এর আগে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাকাউন্টিং চান্স পেয়েছি কিন্তু আমার প্রিয় বিষয় ইংরেজি। তাই, গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি। আমি চান্স পেলে ইংরেজিতে পড়তে চাই।

তাইফুদ মেহমুদের মতো এমন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী আরও তিন জন শিক্ষার্থীর ভর্তি পরীক্ষা জবি মেডিকেল সেন্টারে ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তাঁদের প্রত্যেকের জন্য সহযোগীও দেওয়া হয়েছিল। তাঁরা হলেন নাঈম হোসেন, তৃণা আক্তার সেতু ও আকাশ দাস।

নাঈম হোসেন এসেছিল লক্ষ্মীপুর থেকে। জানা যায় তারা তিন ভাইবোনই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। বড় ভাই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে আর বোন অন্য আরেকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। নাঈম হোসেন পরিক্ষা শেষে বলেন, পরিক্ষা মোটামুটি ভালো হয়েছে আশাবাদী চান্স পাবো। 

আরেক শিক্ষার্থী তৃণা আক্তার সেতু এসেছিল গোপালগঞ্জ থেকে। তিনি মোকসেদপুর সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। দ্বিতীয় বারের মতো গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। সঙ্গে ছিলেন বড় ভাই। ম্যাগনিফাইং গ্লাস ছাড়া তৃণা লেখা পড়তেই পারেন না এর জন্য ম্যাগনিফাইং গ্লাস সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন তিনি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সহযোগী হিসেবে একজনকে দেওয়া হয়েছিল বিধায় তাকে আর ম্যাগনিফাইং গ্লাস পড়তে দেওয়া হয়নি।  

নরসিংদী থেকে এসেছিল আরেক শিক্ষার্থী আকাশ দাস। তিনি মিরপুর বঙ্গবন্ধু কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন মানবিক বিভাগ থেকে। পরিক্ষা শেষে বলেন ‘আমি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হলেও এটাকে প্রতিবন্ধকতা মনে করি না বলেই ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি।’

আরেক পরিক্ষার্থী সচীন কুমার সাহা জনকণ্ঠকে বলেন, জন্মের পর থেকেই পায়ের অসাড়তা নিয়েই বেড়ে উঠেছেন তিনি। সেরিব্রাল ডিসঅর্ডারের কারণে চলাচলে সমস্যা হওয়ার পড়াশোনা করেছেন নিকটস্থ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।আগারগাঁও এর শেখ মুজিব একাডেমী থেকে এইচ.এস.সি তে জিপিএ ৪.৩৩ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। স্কুল বা কলেজের শিক্ষকেরা যথেষ্ট সহানুভূতিশীল হলেও বন্ধুদের নিকট হতে আশানুরূপ সহানুভূতি পায়নি সে। তবুও কোন আক্ষেপ নেই তার, নিজেকে একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে দেখতে চান। পরীক্ষা কেমন হয়েছে তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরীক্ষা ভাল হয়েছে, আমি আশা করছি উত্তীর্ণ হয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারব।