দেশের সর্বকনিষ্ঠ ইউপি চেয়ারম্যান পাভেল তালুকদার

দেশের সর্বকনিষ্ঠ ইউপি চেয়ারম্যান পাভেল তালুকদার
ছবিঃ সংগৃহীত

স্টাফ রিপোর্টার, ঠাকুরগাঁও।। "দেশের সর্বকনিষ্ঠ ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে বাকি পথটা বেশ চ্যালেঞ্জের ছিলো। তবে নিজের কাজ গুলো সফলতার সাথে করতে পেরে বেশ ভালো লাগছে"। বলছিলেন দেশের সর্বকনিষ্ঠ ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়া পাভেল তালুকদার। ২০১৭ সালে মাত্র ২৫ বছর বয়সে তিনি ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

সে সময়ের হরিপুর উপজেলার আমগাও ইউপি নির্বাচনে পাভেলের চাচা শামসুল হুদা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়। তবে দায়িত্ব নেবার নয় মাস পরে অসুস্থ জনিত কারনে তার মৃত্যু হয়। পরে সেই ইউনিয়নের উপ নির্বাচনে অংশ নিয়ে মাত্র ২৫ বছর বয়সে চেয়ারম্যান বনে যান পাভেল তালুকদার। সেই সাথে সফলতার ছাপ রেখে শেষ করেছেন বাকি মেয়াদ।

এবারের ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর পরেই আবার আলোচনায় আশে পাভেলের নাম। পাভেলের সফলতাই ঠাকুরগাঁও জেলার তরুণদের প্রার্থী হতে আগ্রহী করে তুলেছে। জেলার সম্ভাব্য ইউপি চেয়ারম্যানের তালিকায় দেখা যাচ্ছে অনেক তরুণ প্রার্থী। এই তরুণরা আইডল হিসেবে দেখছে পাভেলকে। ভোটারদের উদাহরণও দিচ্ছে পাভেলের নাম নিয়েই।

অল্প বয়সে একটি ইউনিয়নের প্রতিনিধিত্ব করাটা বেশ কঠিন ছিলো জানিয়ে পাভেল বলেন, আমার চাচার মৃত্যু পর আমার প্রার্থী হবার বিষয়টি নিয়েই অনেকে সমালোচনা করেছে। বলেছে এতো কম বয়সের বাচ্চা ছেলেকে দিয়ে হবে না। অনেকে আড়ালে হেসেছে। তাই কাজের বাইরেও এসকল বিষয় আমার জন্যে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছিলো। বংশগত সম্মান রক্ষাটা কঠিন ছিলো। তবে সকলের দোয়া ও সহযোগীতায় আমি পেরেছি। এখন সেই সমালোচকরাই যখন আমার আগে পিছে শুনাম করছে। আমার বেশ ভালো লাগছে। 

আমগাও ইউনিয়নের প্রবীণ থেকে তরুণ। সকলেই পাভেলের কাজের প্রশংসা করছে। প্রবীণ ভোটার আমজাদ হোসেন জানান, আমরা বেশ আশা করে ছোট ছেলেটাকে চেয়ারম্যান বানিয়েছিলাম। তবে মনে একটু ভয় ছিলো। একটা প্রশ্ন ছিলো যে ও পারবে কি না। কিন্তু কাজের মাধ্যমে সে তার জবাব দিয়ে দিয়েছে।

আরেক ভোটার মনসুর বলেন, ইউনিয়নের যেকোনো সমস্যায় ও দ্রুততম সময়ে ছুটে যায়। এলাকার সমস্যা গুলোতে তরুণদের একত্র করে কাজ করছে। তরুণ হওয়ায় আমরা বাড়তি সুবিধা পাচ্ছি। তার নিজের জন্যেও কাজ গুলো সহজ হচ্ছে।

পাভেল নিজের তারুণ্যকে কাজে লাগিয়ে তার ইউনিয়নকে আরো এগিয়ে নেবার স্বপ্ন দেখেন। তিনি ইউনিয়নে তরুণ উদ্যোগতা সৃষ্টি ও মেধা যাচাইয়ে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন বলে জানান এলাকার তরুণরা।

অত্র এলাকার তরুণ উদ্যোগতা সোহেল রানা জানান, একজন তরুণ প্রতিনিধি পাওয়াটা সেই এলাকার যুব সমাজের জন্যে একটা বাড়তি পাওয়া। একজন তরুণ নতুন আইডিয়া নিয়ে কাজ করতে পারে। অন্যান্য তরুণদের চাহিদা বুঝে পরামর্শ প্রদান করতে সহায়ক হন।

সোহেল বলেন, আমি মাস্টারস শেষ করে যখন চাকরীর পিছনে ছুটছিলাম। তখন চেয়ারম্যানের পরামর্শ ও সহযোগীতায় নিজেই ব্যবসা শুরু করি। যা আমার জীবন বদলে দিয়েছে।

এবার তফসিল ঘোষণার পর থেকে বেশ কিছু ইউনিয়নে প্রার্থীতার জন্যে প্রস্তুত হতে দেখা যাচ্ছে তরুণদের। এছাড়াও জেলার অন্যান্য অঞ্চলেও শোনাযাচ্ছে তরুণ প্রার্থীদের নাম।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার চড়োল ইউনিয়ন থেকে এক তরুণ মোসারফ হোসেন নিজের প্রার্থী হবার বিষয়ে এলাকায় ঘোষনা দিয়েছেন। তিনি জানান, পাভেল যোদি ২৫ বছর বয়সে চেয়ারম্যান হয়ে সফলভাবে কাজ করতে পারে।  তাহলে আমি কেনো পারবোনা। আমি চেয়ারম্যান প্রার্থী হবার কথা জানানোর পর থেকেই ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। বিশেষ করে তরুণরা আমার সাথে মিলে এলাকার বিভিন্ন উন্নায়ন মূলক কাজে সহযোগীতা করছে।

পাভেল তালুকদার জানিয়েছেন চলমান সফলতাকে পুঁজি করে এবারো তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন তিনি জানান, তরুণদের সাথে নিয়ে কাজ করতে চান তিনি। এবারো নৌকা প্রতিকে নির্বাচন করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ঠাকুরগাঁও জেলার প্রবীণ রাজনীতিবিদ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাদেক কুরাইশি জানান, প্রতিটি নির্বাচনেই এখন তরুণ প্রার্থী বেড়ে চলেছে। এটা ভালো দিক। বর্তমান সরকারও দেশের উন্নায়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে তরুণদের নিয়ে কাজ করতে চান। তরুণরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের নিয়ে দেশের উন্নায়নে আরও বেশি কাজ করা সম্ভব।