নীলফামারীতে শিশুকন্যাই উন্মোচিত করলো হত্যাকান্ডের রহস্য: গ্রেফতার-১

নীলফামারীতে শিশুকন্যাই উন্মোচিত করলো হত্যাকান্ডের রহস্য: গ্রেফতার-১

নীলফামারীতে শিশুকন্যাই উন্মোচিত করলো হত্যাকান্ডের রহস্য: গ্রেফতার-১
জাহিদুল হাসান জাহদি।স্টাফ রিপোর্টার।। রোজিনা হত্যার রহস্য উম্মোচিত করে দিল রোজিনার শিশু কন্যা মারিয়া আক্তার (৫)। এ ঘটনায় রোজিনার স্বামী ইউনুসকে গ্রেফতার করেছে নীলফামারী থানা পুলিশ।
মামলার আরজি সূত্রে জানা যায়,”পূর্বের স্ত্রীর কথা গোপন করে ২০১৬ সালে সৈয়দপুর উপজেলার ঢেলাপীর আবাসনের মো: দুলাল হোসেনের মেয়ে রোজিনা আক্তার (দুলালী) কে বিয়ে করে ইউনুস আলী। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে, দুই স্ত্রী থাকার কারনে ইউনুসের সংসারে প্রতিনিয়ত চলতে থাকে পারিবারিক কলহ। এরই ধারবাহিকতায় গত ১১ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখ সন্ধ্যায় রোজিনা আক্তার প্রতিদিনের ন্যায় দুগ্ধপোষ্য শিশু আয়েশা সিদ্দিকা (১০ মাস) ও তার পূর্বের স্বামীর শিশুকন্যা মারিয়া(০৫) সহ নীলফামারী থানাধীন সংগলশী ইউনিয়নের শিমুলতলী নামক  স্থানে জনৈক ওমর আলীর ভাড়া বাসায় অবস্থান করছিল। এসময় স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হলে উক্ত সময় মৃতার ভাই ও ভাইয়ের স্ত্রী বাড়িতে না থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ইউনুস তার স্ত্রী রোজিনা আক্তারকে প্রথমে হাত দিয়ে গলা চিপে ধরলে রোজিনা  অজ্ঞান হয়ে পড়ে। রোজিনার মৃত্যু নিশ্চিত করতে রোজিনার ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রেখে ঘরে থাকা শিশু মারিয়া(০৫) কে ঘরের দরজা বন্ধ করে চুপ থাকতে বলে  বাড়ি হইতে বেড় হয়ে যায় ধুরন্তার রোজিনার স্বামী ইউনুস আলী। হত্যা করার পর রোজিনার স্বামী হত্যাকান্ডের ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে রোজিনা আক্তার আত্মহত্যা করেছে বলে প্রচারের কৌশল অবলম্বন করে রোজিনার ঘাতক স্বামী ইউনুস আলী”।
বিষয়টি নিয়ে নীলফামারী থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দর রউফ বলেন, “জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান বিপিএম, পিপিএম  নীলফামারী মহোদয়ের প্রত্যক্ষ দিক নির্দেশনায়  উক্ত হত্যাকান্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং অপরাধিকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার নিমিত্তে  গঠন করা হয় একটি চৌকশ টিম । বিভিন্ন বিষয়কে সামনে রেখে শুরু হয় তদন্ত। তদন্তের এক পযায়ে শিশু কন্যা মারিয়ার মাধ্যমে জানা যায় মৃতার স্বামী ইউনুস তাহার স্ত্রী রোজিনাকে গলা টিপে এবং ওড়না দিয়ে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে তার মাকে হত্যা করে এবং তাহাকে ঘরের দরজা বন্ধ করতে বলে ঘর থেকে বের হয়ে যায়”।
তিনি আরো বলেন, “শিশু মারিয়া গত ০৬/০৪/২১ তারিখ বিজ্ঞ আদালতে ঘটনার বিষয়ে ফৌজদারী কাযবিধি আইনের ১৬৪ ধারা মোতাবেক জবানবন্দি প্রদান করায় গত ০৭/০৪/২০২১ তারিখ আসামী ইউনুসকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরন করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামী হত্যাকান্ডের বিস্তারিত উল্লেখ করে বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে”।
এদিকে, ছোট্ট শিশু মারিয়া আক্তার রোজিনা হত্যা কান্ডের রহস্য উন্মোচিত করায় ইউনুস আলীকে গ্রেফতারের পর অনেকটা সস্থির নি:শ্বাস ফেললেও দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমুলক শান্তির দাবী করছেন স্বজন হারা পরিবারটি।