পূরণ হচ্ছে রংপুরবাসীর স্বপ্ন, ২০২৩ সালে পাবেন প্রাকৃতিক গ্যাস

পূরণ হচ্ছে রংপুরবাসীর স্বপ্ন, ২০২৩ সালে পাবেন প্রাকৃতিক গ্যাস
ছবি: সংগৃহীত

তৌহিদুল ইসলাম, নিউজ করেসপনডেন্ট।।উত্তরের কৃষি সমৃদ্ধ জেলা রংপুর। এ জেলায় পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের দাবি বহু দিনের। ২০১১ সালে রংপুর সফরে এসে সেই দাবি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপরই রংপুর বিভাগের তিন স্থানে পাইপলাইনে প্রাকৃতিক গ্যাস সংযোগ সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেন সরকার।

২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে একনেক সভায় ‘রংপুর, নীলফামারী, পীরগঞ্জ শহর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় গ্যাস বিতরণ পাইপলাইন নেটওয়ার্ক নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। সেই প্রকল্প ঘিরে এখন প্রাকৃতিক গ্যাস পেতে স্বপ্নে বিভোর রংপুরবাসী। ইতোমধ্যে গ্যাস সরবরাহের কাজ ৫০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। যদিও এই গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইনটির ডিপিপিতে ২০২১ সালের জুনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য ছিল। পরে মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২২ সালের ডিসেম্বর করা হয়। ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা ও করোনার কারণে ২০২৩ সালের জুনের আগে প্রকল্পটির কাজ শেষ হচ্ছে না, এখন তা অনেকটা নিশ্চিত করে বলা যায়।

প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি হওয়ায় হতাশ স্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তারা। তাদের অনেকেই রংপুরের পীরগঞ্জ থেকে সৈয়দপুর পর্যন্ত প্লট ক্রয় করে এখন গ্যাসের জন্য অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। তারা বলছেন, গ্যাস সরবরাহ না থাকায় প্রাচীন এ জেলায় ভারী শিল্প ও কলকারখানা গড়ে ওঠেনি। তবে গ্যাস সরবরাহ শুরু হলে এ অঞ্চলে শিল্প বিপ্লব ঘটবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের পাশ দিয়ে গ্যাস সংযোগ সম্প্রসারণে পাইনলাইন স্থাপনের জন্য জ‌মি চি‌হ্নিতকরণের কাজ চলছে। প্রকল্পের কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই উপজেলার ভবানীপুর ও বলদিপুকুর এলাকায়ও দেখা গেছে গ্যাস সরবরাহ পাইপলাইন স্থাপনের কর্মযজ্ঞ।  

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের আওতাধীন পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (পিজিসিএল) এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। বগুড়া থেকে পীরগঞ্জ হয়ে রংপুর ও সৈয়দপুর পর্যন্ত পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের কাজ শুরু হয়েছে ২০১৮ সালের অক্টোবরে। এ প্রকল্প ২০২৩ সালের জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এক হাজার ৩৬৮ কোটি ৫২ লাখ ব্যয় হবে এ প্রকল্পে। জিটিসিএল এখানে ১০ কোটি তিন লাখ টাকা খরচ করবে। বাকি টাকা দেবে সরকার।

প্রকল্পের আওতায় (বগুড়া থেকে রংপুর হয়ে সৈয়দপুর) ৩০ ইঞ্চি ব্যাসের ১৫০ কিলোমিটার সঞ্চালন পাইপলাইন স্থাপন কাজ চলছে। ১০০ এমএমএসসিএফডি সিজিএস (সিটি গেট স্টেশন) ৫০ (রংপুর) এবং ২০ (পীরগঞ্জ) এমএমএসসিএফডি ক্ষমতাসম্পন্ন টিবিএস (টাউন বর্ডার স্টেশন) স্থাপন করা হবে। এর জন্য ৩০৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে।

রংপুরবাসীর স্বপ্নের এই সঞ্চালন পাইপ লাইনের পাশপাশি বিতরণ লাইন নির্মাণের পৃথক একটি প্রকল্পও হাতে নিয়েছে পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। প্রকল্পের আওতায় ১০০ কিলোমিটার থাকবে বিতরণ লাইন। এর মধ্যে রংপুর শহরে ৪৪ কিলোমিটার, পীরগঞ্জে ১০ কিলোমিটার এবং নীলফামারী ও উত্তরা ইপিজেড এলাকায় ৪৬ কিলোমিটার অংশ রয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক খন্দকার আরিফুল ইসলাম জানান, কোভিড-১৯ এর কারণে মালামাল শিপমেন্টে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।  মাঠে হয়তো দৃশ্যমান না হলেও পাইপ আনাটাও বড় একটি কাজ। যা সফলভাবে শেষ হয়েছে। ইতোমধ্যে বগুড়া থেকে রংপুর হয়ে সৈয়দপুর পর্যন্ত গৃহীত প্রকল্পের কাজ ৫০ শতাংশ শেষ হয়েছে। আগামী বছরের জুন নাগাদ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে তিনি আশাবাদী। তবে প্রাথমিক অবস্থায় কারা কারা গ্যাস পাবেন এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহে পাইপলাইন স্থাপনের কাজ শুরু হওয়ায় খুশি রংপুরবাসী। স্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তাসহ ব্যবসায়ী মহলের দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন ছিল এ অঞ্চলে গ্যাস সরবরাহের। এজন্য বহুবার হরতাল, মিটিং মিছিলও হয়েছে। এখন সবার দাবি, বারবার প্রকল্পের মেয়াদ না বাড়িয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ কার্যক্রম শুরু করা হোক।

রংপুর বিভাগীয় কমিশনার আবদুল ওয়াহাব ভূঞা জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে জমি অধিগ্রহণ শেষ হয়েছে, এখন হস্তান্তর প্রক্রিয়া বাকি। আগামী বছরের মধ্যে রংপুরে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।