বাবা ও ছেলে, পায়ে হেঁটে পথ চলাই যাদের শখ 

বাবা ও ছেলে, পায়ে হেঁটে পথ চলাই যাদের শখ 
ছবিঃ তৌহিদুল ইসলাম

তৌহিদুল ইসলাম।।নিউজ করেসপন্ডেন্ট।।বাবা অবসরপ্রাপ্ত সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন (অনারারী) সাদেক আলী সরদার (৬৫) ও ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান (৩২)। পায়ে হেঁটে পথ পাড়ি দেয়াই যাদের শখ। ২৩ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা থেকে ১৫০ কিঃমিঃ পথ পায়ে হেঁটে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় এসেছেন বাবা ও ছেলে। 

গত বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারী) সন্ধ্যা ৬টায় তারা হাতীবান্ধা উপজেলা চত্ত্বরে প্রবেশ করেন। এসময় কর্মরত সংবাদকর্মীরা বাবা ও ছেলেকে অভিনন্দন জানান। তাদের উদ্দেশ্য ছিল গাইবান্ধা থেকে পায়ে হেঁটে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলা আসা।

এর আগে মঙ্গলবার (২২ ফেব্রুয়ারী) ভোর ৫ টায় গাইবান্ধা থেকে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধার উদ্দেশ্যে রওনা দেন বাবা ও ছেলে। ৯০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে লালমনিরহাট শহরে এসে পৌঁছান তারা রাত ১০ টায়। এরপর হাতীবান্ধার উদ্দেশ্যে রওনা করেন। 

বাবা ও ছেলে ইতোমধ্যে এক হাজার চব্বিশ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে পাড়ি দিয়েছেন। শখ এবং শরীর চর্চাই তাদের মুখ্য উদ্দেশ্য। এর আগে পঁয়ত্রিশবার পায়ে হেঁটে বিভিন্ন স্থানে গিয়েছেন তারা। এটি তাদের ৩৬তম মিশন।  টানা ছত্রিশবার তাদের এ পথ চলা। পরবর্তীতে তাদের সফর পঞ্চগড়, সিলেট ও কক্সবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে।

জানা গেছে, ২০০৬ সালে সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেন ক্যাপ্টেন সাদেক আলী সরদার। বাড়িতে এসে বসে সময় কাটাতে ভাল লাগে না তার এবং শরীরও যেন অকেজো হয়ে পড়ছে। শরীরকে ঠিক রাখতে প্রথমে গাইবান্ধা জেলার সকল উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়নে একা একা হাঁটতে শুরু করেন তিনি।  

বড় ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান বাবার পায়ে হেটে এ পথ চলার সাথী হয়েছেন এবং বাবাকে সঙ্গ দিতে ও তার শখ পুরনে সফর সঙ্গী হয়েছেন। মেজো ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান। বগুড়া, রংপুর, পীরগঞ্জ এবং গাইবান্ধার সব উপজেলা সহ বিভিন্ন স্থানে বাবাকে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি।

ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাবার প্রতি ভালবাসাটাই এখানে কাজ করেছে আমার, উনাকে আমি আমার বন্ধুর মতো দেখি। ছোট বেলা থেকে আমরা দুই ভাই বাবার সাথে বন্ধুর মতো চলি। বাবার বয়স হয়ে গেছে, তাই তাকে একলা ছাড়তে পারি না।

বাবার সাথে পায়ে হেঁটে পথ চলছি, এতে করে আমার শরীরেরও চর্চা হচ্ছে। শরীর ঠিক রাখতে শরীর চর্চার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি। আগামীতে আমাদের আরও অনেক জায়গায় যাওয়ার পরিকল্পনা আছে। আমরা গাইবান্ধা হতে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় ১৫০ কিলোমিটার পথ পায়ে হেটে পাড়ি দিয়ে আসলাম। আমাদের একটা লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে পায়ে হেঁটে ভ্রমন। 

তবে এখনে ভ্রমণের মূল উদ্দেশ্য না বললেও আগামীতে অনেক আরও দেশ ছেড়ে বিদেশেও পথ পাড়ি দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন সাদেক আলী সরদার বলেন, আমি আর্মির রিটায়ার্ড অফিসার, পথ চলতে ভয় করি না।

তিনি বলেন, এটি আমাদের ৩৬ তম মিশন। টানা ৩৬ তম মিশনে আমাদের বাবা-ছেলেও এ পথ চলা। পরবর্তীতে আমরা পঞ্চগড়, সিলেট ও কক্সবাজারসহ আরও বিভিন্ন স্থানে পথ পাড়ি দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।