ভরা মৌসুমেও মেঘনায় মিলছে না রূপালী ইলিশ

ভরা মৌসুমেও মেঘনায় মিলছে না রূপালী ইলিশ
ছবিঃ সংগৃহীত
এস এম আওলাদ হোসেন, সিনিয়র রিপোর্টার।। ১৭ জুলাই, শনিবার।। লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত রূপালি ইলিশ। গত (১ মে) থেকে জাল, নৌকা, ট্রলার ও বিভিন্ন মাছ ধরার সরঞ্জামাদি নিয়ে রায়পুর উপজেলার প্রায় সাড়ে ৭ হাজার জেলে ইলিশ ধরতে মেঘনা নদীতে নামেন। কিন্তু ভরা মৌসুম শুরু হলেও মেঘনায় চলছে ইলিশের চরম আকাল।
মাছ শিকারীরা জানায়, নদীতে জাল ফেলেও জালে মিলছে না রূপালি ইলিশ। এবার ব্যাপক হারে জাটকা নিধন হওয়ায় জালে ইলিশ ধরা পড়ছে না। সামান্য ইলিশ ধরা পড়লেও দাম তিনগুণ হওয়ায় সাধারণ ক্রেতা কিনতে পারছে না ইলিশ। এতে বিপাকে পড়েছেন জেলে সম্প্রদায়।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুরের ষাটনল থেকে রায়পুর উপজেলা হয়ে লক্ষ্মীপুরের আলেকজান্ডার পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার নদী এলাকা ইলিশের অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে।
ওই এলাকায় (১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল) পর্যন্ত সব ধরনের জাল ও মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছিল সরকার। কাঙ্ক্ষিত ইলিশের আশায় কোমড় বেঁধে নদীতে নামে জেলেরা।
সরেজমিন ঘুরে চরবংশি ইউপির সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলতাফ মাষ্টার এর ঘাট, চরকাছিয়া সুইজগেইট সংলগ্ন মাছ ঘাট ও হায়দরগঞ্জের আ’লী নেতা সাইজুদ্দিন মোল্লার মাছঘাটসহ কয়েকটি ঘাটে দেখা যায়, ভোলা, বরিশাল, হাইমচর, চাঁদপুর ও রামগতিসহ দূর-দুরান্ত থেকে মাছের পাইকাররা এসে ইলিশ কিনতে না পেরে খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে।
রায়পুরেে মেঘনা নদীর জালিয়ার চর, চরবংশী ও চরলক্ষ্মী এলাকার জেলে সুপিয়ান, সেলিম বকাউল ও রফিক মাঝি  বলেন, মেঘনা নদীতে লাখ লাখ টাকার জাল ও নৌকা নিয়ে মাছ ধরতে নেমেছি। প্রতিদিন আমাদের ৬ থেকে ৮ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়। কিন্তু দিন-রাত নদীতে জাল ফেলে মাত্র আড়াই থেকে ৪ হাজার টাকার মাছ পাই। এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে জাল, নৌকা তৈরি করেছি। ভেবেছিলাম ইলিশ শিকার করে দায়-দেনা পরিশোধ করব। উল্টো নতুন করে বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিতে হচ্ছে। এ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছি। নদীতে ইলিশ ধরা না পড়লে ছেলে-মেয়ে নিয়ে চরম মানবেতর জীবন-যাপন করতে হবে। অন্যদিকে দায়-দেনা পরিশোধ করতে না পারায় বাড়ছে দুশ্চিন্তা।
রায়পুর উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, চলতি বছর বৃষ্টিপাত শুরু না হওয়ায় নদীতে তেমন ইলিশ ধরা পড়ছে না। এ মাসের শেষের দিকে নদীতে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়বে বলে আশা করছি।