মৃত্যুর কাছে হেরে গেল স্বামীর নির্যাতনের শিকার নববধূ মুক্তা 

মৃত্যুর কাছে হেরে গেল স্বামীর নির্যাতনের শিকার নববধূ মুক্তা 
ছবি: সংগৃহীত

আবু তাহের,ষ্টাফ রিপোর্টার।।গত ২২ জানুয়ারী ২০২২ইং তারিখ রাতে যৌতুকের  দাবিতে স্বামী, শাশুড়ি ও ননদদের নির্যাতনের শিকার বুরুঙ্গি গ্রামের মফিজলের কন্যা নববধূ  মুক্তা অবশেষে  মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় মৃত্যুর কাছে হেরে গেছে । মুক্তার মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে পড়েছে। তবে মামলার মুল আসামি পাষণ্ড স্বামী পলাতক রয়েছে।

মামলার তদন্তকারী সাব ইন্সপেক্টর   মুক্তার মরদেহের সুরুত হাল শেষে গাইবান্ধা মর্গে প্রেরণের ব্যবস্থা করেছে বলে জানা গেছে।

তবে তার মায়ের দায়ের করা  মামলার ৬ আসামির মাঝে  ৫ আসামি জামিনের জন্য গাইবান্ধা বিজ্ঞ আদালতে আবেদন করলে গত (৮ মে, রবিবার)  আদালত তাদের আবেদন না মুঞ্জর করে  জেল হাজতে প্রেরন  করার নির্দেশ দেন বলে জানা গেছে।


প্রসঙ্গত ; সাঘাটা উপজেলার দলদলিয়া গ্রামের মৃত মন্তাজ আলীর পুত্র বাবু মিয়ার সাথে একই উপজেলার বুরুঙ্গি গ্রামের মৃত মফিজল আলীর কন্যা  মুক্তা বেগম এর গত পাঁচ বছর পূর্বে ইসলামি শরীয়ত মোতাবেক বিবাহ রেজিষ্ট্রি হয়। 

 
গত ৬ মাস পূবে হইতে মুক্তার স্বামী বাবু মিয়া তার বড় ভাই জহির উদ্দিন, বোন রিক্তা বেগম মা জরিনা বেওয়াসহ  বেগম, ফেন্সি'র কুপরামর্শে ও সহায়তায় বাবু মিয়া মুক্তার কাছে পাঁচ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করে।
 মুক্তা  টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তার স্বামী বাবু মিয়াসহ তার পরিবারের সকলে তার উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। 

এমন অবস্থা চলাকালে ঘটনার দিন ২২ জানুয়ারি ২০২২ ইং রাত্রে মুক্তার শয়ন ঘরের মধ্যে লোহার রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন  স্থানে এলোপাথারী মারপিট করিয়া ছেলা ফোলা জখম করে। 

 মুক্তা অজ্ঞান হয়ে পড়লে বাবু মিয়া ঘটনার বেগতিক দেখে মোছাঃ বেগম ফেন্সি মুক্তার পরনের শাড়ী কাপড় দিয়ে ঘরের ধরনার সাথে ফাঁসে ঝুলিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। 

 
পরে ২৮শে জানুয়ারি তাকে গাইবান্ধা হাসপাতালে ভর্তি করালে
চিকিৎসক তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কা জনক দেখে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর  করে। 


সেখানে কিছুদিন চিকিৎসা করার পর  শারীরিক ভাবে উন্নতি না হলে তার শরীরের বিভিন্ন স্থান পচনধরা শুরু করে।  পচন স্থানে অল্পদিনের ব্যবধানে পোকা ধরে মাংস খসে পড়ে গিয়ে হাড়ের দেখা মেলে। 


অনেকেই ধারণা করেন নির্যাতনে মুক্তা জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাকে  চেতন করতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ইনজেকশনের সিরিঞ্জের সূচ দ্বারা আঘাত করেছে। আর সেই স্থানগুলো ইনফেকশন হয়ে পঁচে গেছে।  

ঘটনার দিন থেকে মৃত্যু সময় পর্যন্ত সময় মুক্তা কথা বলতে পারেনি। মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে শুধুই অশ্রু ঝরেছে।

নির্যাতন ঘটনার দীর্ঘ সাড়ে তিন মাস অতিবাহিতের পর মুক্তা গত (১০ মে) রোজ মঙ্গলবার  সকাল ১১ টার সময় তার বাবার বাড়ীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে।
 এব্যাপারে সাঘাটা থানা অফিসার ইনচার্জ মতিউর রহমান  ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এঘটনায় মুক্তার মা নাজমিন বাদি হয়ে থানায় লিখিত এজাহার করলে তদন্ত সাপেক্ষে মুক্তার উপর নির্যাতন ঘটনায় গত ২৪ এপ্রিল ২০২২ ইং তারিখে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধনী২০০৩ হত্যার উদ্দেশ্যে যৌতুকের জন্য মারপিট ও সহায়তার অপরাধ আইনে মামলা গ্রহন করা হয়।
 মুক্তার মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে লাশের  সুরুতহাল রিপোর্ট সংগ্রহ করে  মর্গে পাঠানো হবে বলে তিনি জানান।