যুক্তরাজ্যে সরকার বিরোধী কর্মকান্ডে সক্রিয় বিএনপি- জামায়াত নেতাকর্মীরা

যুক্তরাজ্যে সরকার বিরোধী কর্মকান্ডে সক্রিয় বিএনপি- জামায়াত নেতাকর্মীরা
ছবি: সংগৃহীত

সিলেট অফিস।।বুধবার ।।১৪ জুলাই।। যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত বিএনপিও-জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীরা সরকার বিরোধী বিভিন্ন কর্মকান্ড অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচন ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনকে বিতর্কিত এবং সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে সভা-সেমিনার ও সোশ্যাল মিডিয়ায় তারা নানা অপতৎপতরা চালিয়ে যাচ্ছেন। 
জামায়াত-শিবির ও বিএনপির এসব নেতাকর্মীরা দেশে থাকাবস্থায় আওয়ামী লীগ সরকার বিরুধী নানা কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলন। তারা সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের কঠোর সমালোচনা ও বিরুধীতা করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সরকার বিরোধী সভা, মিছিল হরতালে পিকেটিংয়ের নামে সড়ক অবরোধ ও জ্বালাও-পুড়াও করার অভিযোগ রয়েছে এসব নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। সরকার বিরুধী কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে বিভিন্ন থানায় তাদের নামে পুলিশ এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের দায়ের করা একাধিক মামলাও রয়েছে। মামলা হওয়ার পর গ্রেফতার এড়াতে বিভিন্ন পন্থায় তারা যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান বলে জানা গেছে। 
বিএনপির ভারপাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এমএ মালেক, জামায়াতের ইউরোপ মুখপাত্র ব্যারিস্টার আবু বক্কর মোল্লা ও ব্যারিস্টার নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরে সাবেক এসব নেতাকর্মী সরকার বিরুধী নানা কর্মকাÐে লিপ্ত রয়েছেন। 
এসব নেতাকর্মী তাদের ফেইসবুক আইডিতে জামায়াত-শিবির ও বিএনপির পক্ষে লেখালেখি করছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যাঙ্গাত্মক কার্টুন ও সরকার বিরুধী বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে কুরুচিপূর্ণ লেখালেখি করে আসছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। 
যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত প্রত্যক্ষদর্শী ও সোশ্যাল মিডিয়া সূত্রে জানা যায়, জামায়াত-বিএনপির এসব নেতাকর্মীরা রুটিন ওয়ার্ক হিসেবে সরকারের বিরোধীতা করে আসছেন। সরকার বিরুধী যে কোনো ইস্যুতে লন্ডনের ওয়েস্ট মিনিস্টার পার্লামেন্ট হাউসের সামন, ইস্ট লন্ডনের আলতাব আলী পার্ক, কমনওয়েলথ অফিসের সামন, ইস্ট লন্ডনের বিভিন্ন রেস্তুরায়ঁ তারা নিয়মিত মিটিং, মিছিল ও সমাবেশ করছেন। সেইভ বাংলাদেশ, সিটিজেন মুভমেন্ট, ওয়ার্কার এলাইন্স, জাস্টিস ফর ভিকটিম, ইউনিবার্সেল ভয়েজ ফর হিউম্যান রাইটস্, নিরাপদ বাংলাদেশ চাই ইউ’কে, পিস ফর বাংলাদেশ, স্ট্যান্ড ফর বাংলাদেশ, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, ভয়েস ফর বাংলাদেশ, অনলাইন এক্টিভিটিস ফোরাম, পাবলিক ফোরাম, শিবির, বিএনপি ও যুবদল ইউ’কেসহ বিভিন্ন ব্যানারে তাদেরকে এসব কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়।
এসব কর্মসূচিতে তারা সরকার বিরোধী শ্লোগান ও বক্তব্য দেন। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতা মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীসহ জামায়াতের কারাবন্দী নেতাদের মুক্তি চাই লেখা সংবলিত ব্যানার, ফেস্টুন ও তাদের ছবি নিয়ে এসব কর্মসূচি পালন করে আসছেন। এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সরকারের মন্ত্রী ও নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা যুক্তরাজ্যে গেলে তাদের গাড়ি লক্ষ্য করে পচা ডিম নিক্ষেপ ও জুতা প্রদর্শন করেন জামায়াত-বিএনপির এসব নেতাকর্মীরা।
যুক্তরাজ্যে সরকার বিরুধী এসব কর্মসূচিতে নিয়মিত যাদের সরব উপস্থিতি রয়েছে তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন- ডঃ শামসুদ্দিন আহমেদ, মুসলিম খান, করিম মিয়া, আহমেদ আলী, জহিরুল ইসলাম, ইশতিয়াক হোসাইন, আশিকুর রহমান আশিক, বুরহান উদ্দিন চৌধুরী, শামীমুল হক, মানিকুজ্জামান খন্দকার, মাজেদুল ইসলাম খান, মো. বেলাল আহমেদ, ইমরান আহমেদ, কাজী মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, আব্দুল বাছিত, আব্দুল ওয়াহাব, সাইফুর রহমান পারভেজ, আবুল কালাম আজাদ, দেলোয়ার হুসেন, জয়নাল আবেদিন, আবু সালেহ মো. ইয়াহইয়া, জাকির হোসেন মিল্লাত, জাকির আহমেদ চৌধুরী, লায়েক আহমদ, রাজু আহমেদ, মিফতা উদ্দীন, শাহান বিন নিজাম, সাহেল আহমদ হুশিয়ার ও লিয়াকত আলী প্রমুখ।
এবিষয়ে মুঠোফোনে কথা হলে দেশে ও যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নেতৃবৃন্দ বলেন, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় থাকা বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে অবস্থান করে প্রতিটি প্রোগ্রামে উপস্থিত হয়ে সরকার বিরুধী বেপরোয়া বক্তব্য দিচ্ছেন। 
ইউরোপ জামায়াতের মুখপাত্র ব্যারিস্টার আবু বক্কর মোল্লা ও ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম সরকার বিরোধী আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়তে জামায়াত-শিবিরের সাবেক নেতাদের উস্কানি দিচ্ছেন। অনতিবিলম্বে ইন্টারপোলের মাধ্যমে জামায়াত-বিএনপির এসব নেতাকর্মীদের দেশে এনে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান ।