রাঙ্গুনিয়ায় স্বামী-স্ত্রী দেবরের ভোট যুদ্ধ এখন 'টক অব দ্য রাঙ্গুনিয়া' 

রাঙ্গুনিয়ায় স্বামী-স্ত্রী দেবরের ভোট যুদ্ধ এখন 'টক অব দ্য রাঙ্গুনিয়া' 
ছবিঃ সংগৃহীত
এম. মতিন, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি।। আগামী ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ৮নং সরফভাটা ইউপি নির্বাচনে ৮নং ওয়ার্ডে ৬ জন প্রার্থী ইউপি সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে স্বামী-স্ত্রী, দেবরসহ একই পরিবারের ৩ জন প্রার্থী  রয়েছেন।
এদিকে একই পরিবারে ৩ জন প্রার্থী হওয়ায় ইউনিয়নের চায়ের দোকানসহ এলাকায় আলোচনার ঝড় উঠেছে। বিষয়টি অনেকটা এখন ‘টক অব দ্য রাঙ্গুনিয়া'তে পরিণত হয়েছে। তবে, একই পরিবার থেকে তাঁদের এই ৩ জনের প্রার্থিতা নিয়ে আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিষয়টি নিয়ে ভোটারদের মাঝেও রয়েছে নানা গুঞ্জন ও বিব্রতভাব।
জানা গেছে, সরফভাটা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার পদে বৈদ্যুতিক পাখা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন বর্তমান মেম্বার আলহাজ্ব আবু আবছার। তার সঙ্গে একই পদে মোরগ প্রতীক নিয়ে লড়াইয়ে আছেন তার আপন ছোট ভাই নুরুল আবছার। মাঠে রয়েছেন অন্য ৩ প্রার্থী সাইফুদ্দিন আজম (তালা), জাহাঙ্গীর আলম (ফুটবল) মোঃ ইকবাল (টিউবওয়েল)। এছাড়া ৭.৮.৯ নং সংরক্ষিত ওয়ার্ডে তালগাছ প্রতিক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন বর্তমান মেম্বার আবু আবছারের স্ত্রী কাজী মোহছেনা বেগম। ফলে আসন্ন ইউপি নির্বাচনে সরফভাটা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড এখন 'টক অব দ্য রাঙ্গুনিয়া'।
স্থানীয়রা জানান, সরফভাটা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য পদে মোট ৬ জন প্রার্থী প্রতীক নিয়ে মাঠে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। এদের মধ্যে ৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী একই পরিবারের। এরা হলেন- ৮নং ওয়ার্ডের মৃত কবির আহমদের ছেলে বর্তমান মেম্বার আবু আবছার, তার ছোট ভাই নুরুল আবছার ও পুত্রবধূ মোহছেনা বেগম। তবে, একই পরিবার থেকে ৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হওয়ায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হলেও বিষয়টি নিয়ে ভোটারদের মাঝে কৌতুহল দেখা গেছে। এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা ও সমালোচনা। বিষয়টি নিয়ে কিছুটা বেকায়দায় রয়েছেন এ ৩ প্রার্থীর স্বজনরা। 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তাদের এক আত্মীয় জানান, ২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনে ৮নং ওয়ার্ড থেকে মেম্বার নির্বাচিত হন আবু আবছার। কিন্তু এবার নির্বাচনী মাঠে নিজ ভাই ও স্ত্রী প্রার্থী হওয়ায় তিনি বিপাকে পড়েছেন। তাদের এই একই পরিবারের ৩ জন প্রার্থী হওয়ায় কিছুটা বেকায়দায় পড়েছেন স্বজনরা। কারো পক্ষেই জোরালো ও প্রকাশ্য কোনো ভূমিকা নিতে পারছেন না। তবে শেষ দিকে যার পাল্লা ভারী থাকবে তাকেই আত্মীয় স্বজনরা সমর্থন দেবেন বলে জানান তিনি। 
প্রতিদ্বন্দ্বী জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করে বলেন, একই পরিবারের ৩জন প্রার্থী হওয়া মানে এটা তাদের কেন্দ্র দখলের কৌশল। নির্বাচনের দিন যাতে কেন্দ্রের রুমগুলোতে বেশি করে তাদের এজেন্ট রাখতে পারে। মূলত ভোটের দিন প্রতিটি বুথে তাদের অধিকজন এজেন্ট রেখে কেন্দ্র দখলে রাখার প্রক্রিয়ার একটি অংশ। 
উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোঃ বয়োজীদ আলম বলেন, 'নিয়ম অনুযায়ী যে কেউ শর্তপূরণ করে প্রার্থী হতে পারে। সেহেতু একই পরিবারের ৩ জন ব্যক্তি প্রার্থী হওয়ায় কোনো অনিয়ম হয়নি, এ নিয়ে আমাদের কিছু করার নেই। তবে কেউ আচরণবিধি ভঙ্গ করলে, ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।'