রোহিঙ্গাদের জন্য নেয়া ভাসানচর প্রকল্প এক্সিলেন্ট - জাতিসংঘ 

রোহিঙ্গাদের জন্য নেয়া ভাসানচর প্রকল্প এক্সিলেন্ট - জাতিসংঘ 
ছবিঃ সংগৃহীত

আজকাল বাংলা ডেস্ক।। ০২ জুন, বুধবার।। ভাসানচরের রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরকে বাংলাদেশ সরকারের 'এক্সিলেন্ট' প্রজেক্ট হিসেবে বর্ননা করেছেন জাতিসংঘ। 

বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করে সংস্থাটির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এর আগে জাতিসংঘ কর্মকর্তারা বৈঠক করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমোনের সঙ্গে বৈঠক করেন।

গত সোমবার সকালে মিয়ানমার থেকে প্রাণভয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি দেখতে নোয়াখালীর ভাসানচরে যান জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের দুই সহকারী হাইকমিশনার।

এরা হলেন ইউএনএইচসিআরের কার্যক্রম পরিচালনাবিষয়ক সহকারী হাইকমিশনার রাউফ মাজাও এবং সুরক্ষাবিষয়ক সহকারী হাইকমিশনার গিলিয়ান ট্রিগস।

রোববর বাংলাদেশে চার দিনের সফরে আসা এ দুই কর্মকর্তা সোমবার সকালে ঢাকা থেকে রোহিঙ্গাদের নতুন আশ্রয়স্থলের উদ্দেশে রওনা হন। ওইদিন বিকেলে তারা ভাসানচর থেকে হেলিকপ্টারে কক্সবাজার যান এবং মঙ্গলবার সারাদিন কক্সবাজারে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরনার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন করেন।

ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের সরিয়ে নেওয়ার পর জাতিসংঘের কোনো সংস্থার সদর দপ্তরের প্রতিনিধিদের এটাই প্রথম সফর।

তারা বলেন, ভাসানচরে সরকারের নেয়া প্রকল্প কক্সবাজারের ক্যাম্পের পরিবেশ ও ব্যবস্থা থেকে অনেক ভালো। আমরা এখানে রোহিঙ্গাদের সাময়িক স্থানান্তরের বিষয়ে বাংলাদেশের পাশে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। 

তাদের সফরকালীন সময়ে রোহিঙ্গাদের বিক্ষোভ সম্পর্কে তারা বলেন, দেখেন তারা চার বছর হলো নিজভূম ত্যাগ করে শরনার্থী জীবন কাটাচ্ছে। তাদের কর্মসংস্থান নেই, বাচ্চাদের স্কুলিং বা শিক্ষার সুযোগ নেই, মূল ভূখন্ডে যাতায়াতের সুযোগ নেই। সেই হতাশার  জায়গা থেকেই কেউ কেউ এটা করেছে। এটা আমরা আন্তরিক ভাবেই নিয়েছি।

জাতিসংঘ কর্মকর্তারা বলেন, আমারা ভাসানচরের পুরো প্রকল্প ঘুরে দেখেছি। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথাও বলেছি। তারা তাদের কিছু দাবির কথা আমাদের জানিয়েছে।  আমরা তাদের সহায়তার জন্য বাংলাদেশ সরকারের পাশে থাকবো এবং বিশ্ব সম্প্রদায়কেও পাশে থাকার আহবান জানাচ্ছি।

' রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক। তারা সেদেশে সর্বচ্চ নিপিড়ীত,  নির্যাতনের শিকার। তাদের নিরাপত্তা দিয়ে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে নেয়া মিয়ানমার সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু তাদের কাছ থেকে কোন ইতিবাচক সাড়া না পাওয়া হতাশা জনক। সেখানে ঘটে যাওয়া সেনা অভ্যুত্থান ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি ডিফিকাল্ট করেছে।  রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকেও জটিলতার মধ্যে ফেলেছে।


ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, সফরে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি, দেশি–বিদেশি সাহায্য সংস্থার প্রতিনিধিসহ রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তায় যুক্ত অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করেন দুই কর্মকর্তা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে জাতিসংঘের যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শরণার্থী সংস্থার দুই সহকারী হাইকমিশনারের এই বাংলাদেশ সফর।

ভাসানচরের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১৮ হাজার ৪১৬ জন রোহিঙ্গা বসবাস করছেন।

প্রথম দফায় কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে ৪ ডিসেম্বর ১ হাজার ৬৪২ জন রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয়। এরপর ২৯ ডিসেম্বর ১ হাজার ৮০৫ জন এবং ২৮ ও ২৯ জানুয়ারি ৩ হাজার ২০০ জন রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে নেয়া হয়। ১৪ ফেব্রুয়ারি ২ হাজার ১৪ জন এবং ১৫ ফেব্রুয়ারি ৮৭৯ জন রোহিঙ্গা ভাসানচরে পৌঁছায়।