লক্ষ্মীপুর থেকে দুই মেয়েসহ নিখোঁজ গৃহবধূ ৪ দিন পর চট্রগ্রামে উদ্ধার

লক্ষ্মীপুর থেকে দুই মেয়েসহ নিখোঁজ গৃহবধূ ৪ দিন পর চট্রগ্রামে উদ্ধার
ছবিঃ সংগৃহীত
এস এম আওলাদ হোসেন, সিনিয়র রিপোর্টারঃলক্ষ্মীপুরের রামগতি থেকে দুই মেয়ে সুরাইয়া জাহান সামিয়া (৮) ও বিবি ফাতেমাসহ (৪) নিখোঁজ গৃহবধূ মারজাহান বেগমকে চারদিন পর চট্রগ্রাম থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সোলাইমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিকেলে দুই মেয়েসহ ওই নারীকে তার পিতার কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর আগে আজ সকালে চট্টগ্রামের পাহাড়তলি এলাকায় ওই নারীর বান্ধবীর বাসা থেকে উদ্ধার করে রামগতি থানা পুলিশ।
মারজাহান রামগতি উপজেলার রামদয়াল এলাকার ব্যবসায়ী মো. হেলালের স্ত্রী এবং নোয়াখালী সদর উপজেলার দক্ষিণ শুল্লকিয়ার বাসিন্দা জাফর আহমেদের মেয়ে।
পুলিশ জানায়, মারজাহানের সঙ্গে তার স্বামী মো. হেলালের কলহ চলছিল। এতে রাগ করে মেয়েদেরকে স্কুলে না নিয়ে মারজাহান চট্টগ্রামের পাহাড়তলি এলাকায় বান্ধবীর বাসায় চলে যায়। মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে পুলিশ পাঠিয়ে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়েছে। 
দুই মেয়েসহ মারজাহানকে তার বাবা নোয়াখালী সদর উপজেলার দক্ষিণ শুল্লকিয়ার বাসিন্দা জাফর আহমেদের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মারজাহানের বড় মেয়ে সামিয়া রামদয়াল বাজার আইডিয়াল প্রিক্যাডেট একাডেমির ছাত্রী। বৃহস্পতিবার (৯ সেপ্টেম্বর) সামিয়ার পরীক্ষা ছিল। সকাল ৯টার দিকে সামিয়া ও ছোট মেয়ে ফাতেমাকে নিয়ে তিনি স্কুলের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হন। কিন্তু সকাল ১০টায় তার স্বামী হেলালকে স্কুলের শিক্ষক শিলা আক্তার ফোন দিয়ে জানান, সামিয়া স্কুলে পরীক্ষা দিতে যায়নি।
এতে হেলাল বিভিন্ন স্থানে স্ত্রী-সন্তানদের খুঁজতে বের হন। কিন্তু আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য সবখানে তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে তিনি ওই দিন রাতেই রামগতি থানায় নিখোঁজ জানিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, নিখোঁজ ডায়েরি পেয়ে আমরা বিভিন্ন থানায় দুই মেয়েসহ মারজাহানের সন্ধানে খবর পাঠিয়েছি। কিন্তু কোথাও তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে মোবাইল নম্বর ট্র্যাকিং করে তাকে পাহাড়তলি থেকে উদ্ধার করা হয়। পারিবারিক কলহের জের ধরেই তিনি বান্ধবীর বাসায় চলে যান বলে জানিয়েছেন।