লক্ষ্মীপুরে সংঘর্ষে যুবলীগ নেতা টিপু-বাবর সহ আহত ১৩

লক্ষ্মীপুরে সংঘর্ষে যুবলীগ নেতা টিপু-বাবর সহ আহত ১৩
 এস এম আওলাদ হোসেন, সিনিয়র রিপোর্টারII  বর্ধিত সভায় আগত কেন্দ্রীয় নেতাদের শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়েছে লক্ষ্মীপুর জেলা যুবলীগের একাধিক গ্রুপের নেতাকর্মীরা। এতে জেলা যুবলীগের সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন টিপু এবং জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নুরুল আজিম বাবর সহ অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। 
এছাড়াও যুবলীগ নেতাকর্মীদের মোটরসাইকেল শোডাউন এবং সার্বিক বিশৃঙ্খলার কারণে জেলা শহরের নিকটস্থ আঞ্চলিক মহাসড়ক ও আন্তঃজেলা সড়ক গুলোতে তীব্র যানজট দেখা দেয়।

মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২ টার দিকে লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের গণকবর ও শিশু পরিবার এলাকার সড়কে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে দলীয় নেতাকমীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দুপুর দুইটার দিকে যুবলীগ নেতা টিপুর হাতে ব্যান্ডেজ লাগানো একটি ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। 
ছবিটি সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসারের (আরএমও) কক্ষে ধারণকৃত। জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নুরুল আজিম বাবর ও তার কয়েক অনুসারী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নেন। 
আহত অন্যরা হলেন ইউনুছ হাওলাদার রুপম, জামাল উদ্দিন, আবদুল মতিন, মো. খোকন, জামাল হোসেন ও মামুন হোসেনসহ ১১ জন। তারাও সদর হাসপাতাল ও স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন।
জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর পৌর আধুনিক বিপনী বিতানের সোনার বাংলা চাইনিজ রেস্টেুরেন্টে জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয়। এ সভাকে কেন্দ্র করে প্রার্থীতা ঘোষণা করে নেতাকর্মীরা প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়েই টিপু তার অনুসারীদের নিয়ে হামলা চালালে সংঘর্ষের সূচনা হয়।
দলীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর সালাহ উদ্দিন টিপুকে সভাপতি ও আবদুল্লাহ আল নোমানকে সাধারণ সম্পাদক করে তিনবছরের জন্য কমিটি ঘোষণা করা হয়। 
এরপর নানা বির্তকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়নি। যুবলীগের কমিটি এখন মেয়াদোত্তীর্ণ। কমিটি গঠনের প্রায় চার বছর পর এ প্রথম বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয়েছে।
বর্ধিত সভার সভাপতি কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হাবিবুর রহমান পবন। বিশেষ অতিথি কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈম, উপ-পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক শামছুল ইসলাম পাটওয়ারী ও সহ-সম্পাদক অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন রিগ্যান। এতে যুবলীগের জেলা, উপজেলার ও পৌর কমিটির নেতাকর্মীরাও অংশ নিয়েছেন।
পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে কেন্দ্রীয় নেতারা ঢাকা থেকে দুপুরে রামগঞ্জ হয়ে লক্ষ্মীপুরে এসেছেন। এতে অন্তত ১০ জন সাবেক যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতা প্রার্থীতা ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় নেতাদের শুভেচ্ছা জানিয়ে শহরে বিলবোর্ড, ব্যানার-পেস্টুন সাঁটিয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন। 
বর্ধিত সভার অতিথিদের বরণ করতেই দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে তারা রামগঞ্জ-লক্ষ্মীপুর সড়কের বিভিন্ন স্থানে দাঁড়ায়। এসব দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে যুবলীগ সভাপতি টিপুর নেতৃত্বে হামলা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে গাড়ি বহরে লক্ষ্মীপুর বর্ধিত সভার প্রধান অতিথি পবনের পরিবর্তে বিশেষ অতিথি শেখ ফজলে নাঈমকে নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন যুবলীগের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।
আহত যুবলীগ নেতা ইউনুছ হাওলাদার রুপম বলেন, টিপুর নেতৃত্বে নেশাগ্রস্ত একদল বখাটে মোটরসাইকেলে এসে আমাদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা করেছে। এতে আমি ও সৈয়দ বাবরসহ নেতাকর্মীরা আহত হয়। যুবলীগকে তারা বাবার সম্পত্তি মনে করছে। বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতাদের জানানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে জেলা যুবলীগের সভাপতি একেএম সালাহ উদ্দিন টিপু গণমাধ্যমকে জানান, বাবরের সঙ্গে তার বাদানুবাধ হয়েছে। কাউকে মারধর করা হয়নি।
স্থানীয়রা জানায়, জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, মোটরসাইকেল শোডাউন এবং বিশৃংখলার কারণে জেলা শহর সংলগ্ন সড়কগুলোতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হয় সাধারণ মানুষ।
সদর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শিপন বড়ুয়া বলেন, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শহরজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বিশৃঙ্খলার ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। বর্ধিত সভাস্থলেও পুলিশ মোতায়েন আছে।