শাবির শিক্ষক সমিতির নির্বাচন নতুন রূপে শাবির বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের প্যানেল!

শাবির শিক্ষক সমিতির নির্বাচন নতুন রূপে শাবির বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের প্যানেল!
ছবিঃ সংগৃহীত

শাবির শিক্ষক সমিতির নির্বাচন
নতুন রূপে শাবির বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের প্যানেল!

সিলেট প্রতিনিধি।। শনিবার, ১৩ মার্চ।। দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার মধ্যে শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে টানা হারের রেকর্ডে এবার প্যানেল নাম থেকে ‘ধর্মীয় মূল্যবোধে শ্রদ্ধাশীল’ অংশ বাদ দিয়ে নতুন রূপে প্যানেল গঠন করেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষকেরা। তবে শুধুমাত্র প্যানেলের নাম সংক্ষিপ্ত করার জন্যই ধর্মীয় মূল্যবোধ অংশ বাদ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের।
ধর্মীয় মূল্যবোধ অংশ রেখে জোট গঠনের বিষয়ে জানা যায়, ২০০১ সাল থেকে বিএনপি ও জামায়াতপন্থী শিক্ষকেরা ‘মহান মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ও ধর্মীয় মূল্যবোধে শ্রদ্ধাশীল শিক্ষক ফোরাম’ নামে প্যানেল গঠন করে শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে অংশ নিয়ে আসছেন। ২০০৯ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে গেল বছর পর্যন্ত একই নামে নির্বাচনে অংশ নিয়ে আসছেন তারা।
দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর একই নামে জোটে থাকার পর এবার প্যানেল নাম থেকে ‘ধর্মীয় মূল্যবোধ’ অংশ বাদ দেওয়া হলো। তবে আগামী ১৫ মার্চ শিক্ষক সমিতির নির্বাচনকে সামনে রেখে অনেকটা লিবারেল হয়ে নিজেদের অবস্থার জানান দিতেই প্যানেল নাম থেকে ‘ধর্মীয় মূল্যবোধ’ অংশ বাদ দিয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আওয়ামীপন্থী শিক্ষক বলেন, এবারের নির্বাচনেও বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষকেরা নিজেদের অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে। এজন্য নিজেদেরকে সকল শিক্ষকদের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে নাম পরিবর্তন করে নতুন পন্থা অবলম্বন করেছে তারা।
একই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক জানিয়েছেন, বিএনপি-জামায়াত প্যানেল ধর্মীয় মূল্যবোধ বাদ দিয়ে নতুন প্রজন্মের শিক্ষকদের কাছে প্যানেলের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে নতুন কৌশল অবলম্বন করছে। নতুন প্রজন্মের শিক্ষকদের কাছে পৌঁছিয়ে তাদের সহানুভূতি পাওয়া ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি তাদের প্যানেলের নাম পরিবর্তন করার মূল উদ্দেশ্য । দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণীর কাছে প্যানেলের গ্রহনযোগ্যতা বাড়ানো এ পরিবর্তন নিয়ে আসার অন্যতম কারণও বটে।
তবে গ্রুপের নাম বড় হয়ে যাওয়ায় নানামুখী সমস্যা এড়াতে ‘ধর্মীয় মূল্যবোধ’ অংশ বাদ দেওয়া হয়েছে বলে জানান বিএনপি-জামায়াতপন্থী প্যানেলের ইন্টিয়ারিং টাস্ক কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আশরাফ উদ্দিন। তিনি বলেন, “আমাদেও গ্রুপের নাম অনেক বড়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে গ্রুপের নাম লিখতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়। এজন্য প্যানেলের নাম সংক্ষিপ্ত করতে ‘ধর্মীয় মূল্যবোধে শ্রদ্ধাশীল’ শব্দগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে।”
বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিগত সময়ে নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতপন্থী শিক্ষকেরা পছন্দমতো পদে প্রার্থিতা দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়েছিলেন। নির্বাচনের ফলাফলেও ঘটেছে ব্যাপক বিপর্যয়। নিজেদের প্যানেল নামের পরিবর্তন নিয়েও দীর্ঘদিন থেকে আলোচনা-দ্বন্দ্ব চলে আসছিল । এমনকি প্যানেল নাম থেকে ধর্মীয় মূল্যবোধ বাদ দিতে বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সমর্থন থাকলেও আপত্তি জানিয়েছিলেন জোটসঙ্গী জামায়াতপন্থী শিক্ষকেরা। নামের এমন পরিবর্তন নিয়ে জোটভূক্ত দুই দলের শিক্ষকদের মধ্যেও অন্তর্কোন্দল তৈরি হয়েছে।
জোটসঙ্গী দুই দলের শিক্ষকদের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলার মধ্যেই আগামী ১৫ মার্চ শিক্ষক সমিতির বার্ষিক নির্বাচনকে সামনে রেখে দীর্ঘ ২০ বছর পর প্যানেল নাম থেকে ধর্মীয় মূল্যবোধ বাদ দেওয়া হয়েছে। আর এ পরিবর্তন নিয়ে আসার কারণে প্যানেলের জন্য ভাল কিছুর প্রত্যাশায় এই প্যানেলের শিক্ষকেরা।
উল্লেখ্য, প্রতিবারের ন্যায় এবারও বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের প্যানেল ‘সাজেদুল-আতিকুল প্যানেল’র পাশাপাশি আওয়ামিপন্থী শিক্ষকদের দুইটি প্যানেল যথাক্রমে ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুক্তচিন্তা চর্চায় ঐক্যবদ্ধ শিক্ষকবৃন্দ’ গ্রুপ থেকে ‘রাশেদ-ইশরাক প্যানেল’ ও মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষক পরিষদ’ গ্রুপ থেকে ‘তুলসি-মুহিব প্যানেল’ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যেখানে ১১টি পদের বিপরীতে ৩৩ জন সদস্য নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।