শিল্পায়ন ও বাসযোগ্য নেত্রকোণা পৌরসভা গড়তে চাই -দেওয়ান হাফিজ উদ্দিন অপল

শিল্পায়ন ও বাসযোগ্য নেত্রকোণা পৌরসভা গড়তে চাই -দেওয়ান হাফিজ উদ্দিন অপল
দেওয়ান হাফিজ উদ্দিন অপল

সালাহ উদ্দিন খান রুবেল, নেত্রকোণাঃ নেত্রকোণা সরকারি কলেজ ছাত্রসংসদের সাবেক এজিএস, ৮০ ও ৯০ দশকের ছাত্রলীগ নেতা, বিংশ শতাব্দীর আওয়ামী যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা, বর্তমান নেত্রকোণা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য দেওয়ান হাফিজ উদ্দিন অপল নেত্রকোণা পৌরসভার মেয়র হতে চাই। 

দেওয়ান হাফিজ উদ্দিন অপল জানান- ১৯৭৮ সালে নবম শ্রেণির ছাত্র থাকা অবস্থায় নেত্রকোণা পৌরসভার সাতপাই ওর্য়াড শাখার বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, ৮০ সালে দশম শ্রেণির ছাত্র থাকা অবস্থায় সভাপতি পদে রাজনীতি শুরু করি। দশম শ্রেণির ছাত্র থাকা অবস্থায় সামরিক শাসক জিয়া সরকারের পতনের আন্দোলনে কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসাবে পৌরসভা, নেত্রকোণা সদর উপজেলা এমনকি জেলার বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করি। ১৯৮১ সালে ১৭ ই মে বাঙ্গালীর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সুযোগ্য তনয়া বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে নেত্রকোণা জেলা আওয়ামীলীগ, সহযোগী ও অঙ্গসংগঠন সহ বিমানবন্দরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করি। ১৯৮২ সালে নেত্রকোণা সরকারি কলেজে এইস.এস.সি দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যায়নকালীন ৬ ই মার্চ বাংলাদেশ ছাত্রলীগ মনোনীত কলেজ ছাত্রসংসদের এজিএস পদে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হই। ১৯৮৩ হতে ৮৫ সাল পযর্ন্ত নেত্রকোণা জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি পদে দায়িত্ব নিয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কর্মসূচী এরশাদ সরকারের স্বৈরাচার বিরোধী প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রাম সফলভাবে পালন করি। ১৯৮৫ সালে এরশাদ সরকারের স্বৈরাচার আন্দোলন করার সময় গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘদিন কারাবরণ করি। ১৯৮৫ সালে ২৭ শে সেপ্টেম্বর জেলা ছাত্রলীগের নেতৃত্বে স্বৈরাচার বিরোধী মশাল মিছিল করতে গিয়ে,এরশাদ সরকারের গুন্ডা বাহিনীর দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে নেত্রকোণা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক শাহানূর ইসলাম তিতাস নিহত হন। তারই প্রতিবাদে জেলায় প্রত্যেকটি ইউনিটে জোড়ালো আন্দোলন গড়ে তুলি। ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ মনোনিত নেত্রকোণা সরকারি কলেজ ছাত্রসংসদের ভিপি পদে নির্বাচন করি।

১৯৯০ সালে স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের পতন আন্দোলনের গণঅভ্যূত্থানে জেলা ছাত্রলীগের নেতৃত্বে ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের সকল কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালিত করি। ২০০১ সালে ২৮ শে নভেম্বর তৎকালীন আওয়ামী যুবলীগ নেত্রকোণা জেলা শাখার সভাপতি বাবু স্বপন জোয়ারদারকে ছোটবাজারস্থ তেরীবাজার মোড়ে বিএনপি’র সন্ত্রাস বাহিনী কর্তৃক গুলিতে নিহত হওয়ার পর শহীদ স্বপন জোয়ারদার হত্যার মামলার আসামীদের বিচারের আওতায় আনার জন্য ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তুলি। ২০০৫ সালে তৎকালীন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান বর্তমান কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি ( সাবেক মন্ত্রী ) এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক বর্তমান কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছোটবোন জামাই মির্জা আজম এমপি (সাবেক মন্ত্রী) কর্তৃক জেলা শাখার আহবায়ক কমিটির ১নং সদস্য থাকা অবস্থায় তৎকালীন জোট সরকার ও জামায়াত শিবির বিরোধী কেন্দ্রীয় কর্মসূচী এবং স্থানীয় কর্মসূচী নিয়ে জেলার তৃণমূল পর্যায়ে যুবলীগের নেতৃত্বে জেল-জুলুম উপেক্ষা করে সফল করি। ১/১১ গণতন্ত্রের মানসকন্যা, জাতির পিতার সুযোগ্য তনয়া, ডিজিটাল বাংলার রুপকার,  বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা গ্রেপ্তার হওয়ার প্রতিবাদে জেলা যুবলীগের নেতৃত্বে প্রতিবাদ মিছিল সেই সাথে প্রায় ২ লক্ষ গণ স্বাক্ষরপত্র কেন্দ্রে প্রেরণ করি।


তিনি আরো বলেন- তৃণমূল থেকে আওয়ামী রাজনীতিতে উঠে এসেছি। আমার পরিবার মুক্তিযোদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির পরিবার সেই সাথে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে তারই কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশে আমার প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। হাজার বছরের শ্রেষ্ট বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর সহ সকল শহিদদের হত্যার প্রতিবাদকারী। স্বাধীন বাংলার স্থপতি, জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান - এর সুযোগ্য কন্যা বার বার নির্বাচিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার ঘোষিত রুপকল্প বাস্তবায়ন করতে চাই। নেত্রকোণা জেলা শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত মহড়া নদীর দুই তীরবর্তী সৌন্দর্য্য বর্ধন, পরিকল্পিত রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ, পৌরসভার শহরতলীতে অর্থনৈতিক জোন এবং বিসিক শিল্প নগরীর পূর্ণাঙ্গরুপ সহ আলাদা আলাদা শিল্পায়ন নগর গঠন করবো বেকারদের কর্মসংস্থানের জন্য। নেত্রকোণা পৌরসভাকে যানজট নিরসন, বাসযোগ্য সবুজায়ন করবো পাশাপাশি সকলের সহযোগীতায় বাসা-বাড়ি পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলবো।