সাকিবের বলে তুফান, ১৮৬ রানে অলআউট ভারত

সাকিবের  বলে তুফান,  ১৮৬ রানে অলআউট ভারত
ছবিঃ সংগৃহীত

সাকিব আল হাসানের  বোলিং তোপে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে প্রথমে ব্যাট করে ৪১ দশমিক ২ ওভারে ১৮৬ রানে অলআউট হয়েছে ভারত। সাকিব ৩৬ রানে ৫ উইকেট নেন। পেসার এবাদত হোসেন ৪৭ রানে ৪ উইকেট নেন।
মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রতিপক্ষ ভারতকে  ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ  জানান  বাংলাদেশের অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক হওয়া লিটন দাস।
ব্যাট হাতে ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিয়েও বড় জুটি গড়তে পারেননি ভারতের দুই ওপেনার অধিনায়ক রোহিত শর্মা ও শিখর ধাওয়ান। উইকেটের অবস্থা বুঝে চতুর্থ ওভারেই স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজকে আক্রমনে আনেন অধিনায়ক  লিটন। নিজের দ্বিতীয় ওভারেই ধাওয়ানকে বোল্ড করেন মিরাজ। রির্ভাস সুইপ করতে গিয়ে আউট হয়ে ৭ রানে ফিরেন ধাওয়ান।
এরপর তিন নম্বরে নামা বিরাট কোহলিকে নিয়ে জুটির চেষ্টা করেন রোহিত। দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করেন তারা। ভারতের দুই সেরা ব্যাটারকে আটকাতে আবারও চমক দেখান লিটন। ১১তম ওভারেই সাকিব আল হাসানকে আক্রমনে আনেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
নিজের প্রথম ওভারেই রোহিত-কোহলিকে তুলে নেন সাকিব। ১১তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ডিফেন্সিভ খেলতে গিয়ে বোল্ড হন রোহিত। চতুর্থ বলে শর্ট কাভারে উপর দিয়ে মারতে গিয়ে লিটনের দুর্দান্ত ক্যাচে বিদায় নেন কোহলি। ডান-দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে দারুন ক্যাচ নেন লিটন। রোহিত ২৭ ও কোহলি ৯ রান করেন।
৪৯ রানে ৩ উইকেট পতনের পর দলের হাল ধরেন শ্রেয়াস আইয়ার ও লোকেশ রাহুল। বড় জুটি গড়ার চেস্টায় থাকা  আইয়ার-রাহুলের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ান বাংলাদেশের পেসার এবাদত হোসেন। ২০তম ওভারের শেষ বলে আইয়ারকে আউট করেন তিনি। অফ স্টাম্পের বাইরের বল পুল করতে গিয়ে মুশফিককে ক্যাচ দিয়ে আউট হওয়া  আইয়ার করেন  ২৪ রান। চতুর্থ উইকেটে ৫৬ বলে ৪৩ রান যোগ করেন তারা।
পঞ্চম উইকেটে ওয়াশিংটন সুন্দরকে নিয়ে ৭৫ বলে ৬০ রান যোগ করেন রাহুল। এই জুটি এত বড় হতো না যদি ২৮তম ওভারে মিরাজের বলে ল-অফে সুন্দরের ক্যাচ না ফেলতেন এবাদত। তখন ১২ রানে ছিলেন সুন্দর।
পরে ৩৩তম ওভারে সুন্দরকে ফেরান সাকিব। নিজের ষষ্ঠ ওভারে তৃতীয় উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় ব্রেক-থ্রু এনে দেন সাকিব। রির্ভাস-সুইপ করে পয়েন্টে এবাদতকে ক্যাচ দেন ৪৩ বলে ১৯ রান করা সুন্দর।
দলীয় ১৫২ রানে পঞ্চম ব্যাটার হিসেবে সুন্দরের বিদায়ের পর বেশি দূর যেতে পারেনি ভারত। ৪২তম ওভারে ১৮৬ রানে গুটিয়ে যায় ভারত। শেষ ৫ উইকেটের মধ্যে এবাদত ৩টি ও সাকিব ২টি উইকেট নেন।
ভারতের দীপক চাহারকে শিকার করে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে চতুর্থবারের মত পাঁচ উইকেট নেন সাকিব। পুরো ১০ ওভার বল করে ৩৬ রানে ৫ উইকেট নেন সাকিব। ভারতের বিপক্ষে এটিই তার সেরা বোলিং ফিগার।
ওয়ানডেতে দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নামা এবাদত ৮ দশমিক ২ ওভার বল করে ৪৭ রানে ৪ উইকেট শিকার করেন।
টপ-অর্ডারের ব্যর্থতার মাঝে ভারতের পক্ষে সর্বোচ্চ রান করেন রাহুল। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১১তম হাফ-সেঞ্চুরির ইনিংসে ৭৩ রান করেন তিনি। রাহুলের   ৭০ বলে ৫টি চার ও ৪টি ছক্কার ইনিংসের সুবাদেই সম্মানজনক স্কোর পায়  ভারত।