স্কুল ছাত্রী গণধর্ষণ ও আত্মহত্যা প্ররোচনায় অভিযুক্ত ধর্ষক গ্রেফতার

স্কুল ছাত্রী গণধর্ষণ ও আত্মহত্যা প্ররোচনায় অভিযুক্ত ধর্ষক গ্রেফতার
ছবি: সংগৃহীত

ডেস্ক রিপোর্ট ।।ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মিম আক্তার (১৫) নামের একজন মেয়ে গণধধর্ষনের শিকার হয়ে বিষ পানে আত্মহত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ধর্ষক ও আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারী মোঃ রাব্বি ইসলামকে গ্রেফতার।

গত ২৩ আগস্ট  রাত আনুমানিক ১০:০০ টার দিকে ফরিদপুর জেলার ভাংগা থানাধীন হাজরাকান্দা এলাকায়  বেশকিছু বখাটে যুবকদের দ্বারা গণধর্ষণ ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার শিকার হয়ে মিম আক্তার (১৫) ঘরে থাকা ঘাস মারার “প্যারাকোট” নামক বিষ পান করে গুরুতর অসুস্থ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৯ আগষ্ট সকাল ১০:৪৫ মিনিটে মৃত্যুবরণ করে। হত্যার ঘটনার বিষয়ে মিম আক্তার এর মাতা- মোসাঃ বিউটি বেগম (৪০) বাদী হয়ে মোঃ রাব্বি ইসলাম (২৩) সহ ও অজ্ঞাতনামা ২ জনকে আসামী করে ফরিদপুর জেলার ভাংগা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

 বিষয়টি সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার, জনাব মুক্তা ধর পিপিএম (বার) গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।

 তিনি জানান, মিম এর পরিবার ও বিভিন্ন উৎস থেকে ঘটনা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য সরেজমিনে সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তীতে সংগৃহীত বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ঠ মূল অভিযুক্ত মোঃ রাব্বি ইসলাম ওরফে এম জেড এইচ রাব্বি (২৩) পিতা- নুরুল ইসলাম, নগরকান্দা, জেলা- ফরিদপুরসহ বেশ কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় এবং তাকে ফরিদপুর সদর থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে।

 

পুলিশ সুপার, জনাব মুক্তা ধর পিপিএম (বার) আরো জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত রাব্বী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানায়, মিম আক্তার (১৫) তার সৎ মামাতো বোন। সে মিমকে পছন্দ করায় তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিলে মিম তা প্রত্যাখ্যান করে। পরবর্তীতে রাব্বি তার বাবা-মা’র মাধ্যমে মিমের পরিবারের নিকট বিয়ের প্রস্তাব দিলে মিম প্রাপ্ত বয়স্কা না হওয়ায় তার পরিবার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে দেয়। এতে রাব্বি আরো ক্ষিপ্ত হয়ে মিম ও তার পরিবারের উপর প্রতিশোধ নেয়ার সুযোগ খুঁজতে থাকে। অবশেষে ইং ২৩ আগষ্ট  রাত আনুমানিক ১০:০০ টার সময় তার সহযোগীসহ ফরিদপুর জেলার ভাংগা থানাধীন হাজরাকান্দায় মিমের বাড়িতে যেয়ে ওৎ পেতে থাকে। ভিক্টিম মিম প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার জন্য ঘরের বাইরে এলে রাব্বি ও তার সহযোগীরা তার মুখ আটকে পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে পালাক্রমে গণধর্ষণ করে। গণধর্ষণের বিষয়টি কাউকে বললে তার ও তার পরিবারের সদস্যদের খুন করার হুমকি প্রদান করে। পরে মিম গণধর্ষণ ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার শিকার হয়ে ঘরে থাকা ঘাস মারার “প্যারাকোট” নামক বিষ পান করে অসুস্থ হলে রেফার্ড সূত্রে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৯ আগষ্ট তারিখ সকাল ১০:৪৫ মিনিটে মৃত্যুবরণ করে।

 

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভিক্টিম মিম আক্তার (১৫) আসামী- রাব্বি ও তার সহযোগী কর্তৃক তার উপর সংগঠিত নারকীয় ঘটনার জবানবন্দী প্রদান করে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। ভিক্টিম মিম আক্তার (১৫) গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর থানাধীন দিগনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত ছিল।