সংবাদপত্র শিল্প কি ঝুঁকিতে? 

সংবাদপত্র শিল্প কি ঝুঁকিতে? 
ছবিঃ সংগৃহীত

আমার নিজস্ব অনুভূতি হচ্ছে, সামনে কি সংবাদপত্র শিল্পটি ঝুঁকিতে? আমি ১৯৬৯ সাল থেকে নিয়মিত সংবাদপত্র পড়ে আসছি।  তখন রংপুরের মতো মফস্বল শহরে একদিন পরে ঢাকার দৈনিক পৌঁছাত। তারপরেও আগ্রহ নিয়ে পুরাতন সংবাদ পড়তাম। উনসত্তরের ঐতিহাসিক গণ আন্দোলনের সাদা কালো ছবির প্রতি কি আগ্রহ বলে শেষ করা যাবেনা। তখন নাকি সংবাদ সেন্সর করে প্রকাশ করতে হতো। তারপরেও ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া জনগণকে সত্য সংবাদ দেবার চেষ্টা করতেন। তিঁনি ১লা জুন ১৯৬৯ সালে পরলোক গমন করেন। তাঁর মৃত্যুর  পরেও পত্রিকাটির সংবাদ উপস্থাপনার গুনগত মান ধরে রাখার ব্যাপারে  কোন আপোশ  লক্ষ্য করা যায়নি। 

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ে রুমমেট সহ পত্রিকা, আর নিজে একক ভাবে সাপ্তাহিক বিচিত্রা রাখতাম। 
কর্মজীবনে পত্রিকা ওয়ালা, পত্রিকাটি  বাসায় এমন সময়ে দিয়ে যেতো তখন পত্রিকার বিশেষ অংশে চোখ বুলিয়ে বাসা থেকে বের হতে হতো। অফিসে পত্রিকা পড়ার অভ্যাস  ছিলোনা বিধায়, রাতে বাসায় ফিরে অন্যান্য আর্টিকেলগুলো পাড়তাম।  
চাকরি থেকে অবসরে যাবার পরেও গতবছরের (২০২০) পুরো সময় পত্রিকা পড়েছি। যদিও পরবর্তীতে ইত্তেফাকের পরিবর্তে অন্য পত্রিকা পড়তাম। দীর্ঘদিন ধরে পত্রিকাটি পড়ার পরে বেশ কয়েক বছর থেকে মনে হচ্ছ আপন মহিমায় পত্রিকাটি আর বিকশিত হতে পারছেনা। 
কয়েক মাস থেকে পত্রিকা পড়ার কোন আগ্রহ পাচ্ছিনা। 
হকারের কথা চিন্তা করে গতবছর এবং এ বছরের  এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত পত্রিকা নেবার পরে, এখন পত্রিকা নেয়া বন্ধ করে দিতে বাধ্য  হয়েছি ।  হকার জানালো তার প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ টি পত্রিকা বিক্রি হতো। গত বছর থেকে কমতে কমতে এখন তা নেমে এসেছে ৫০এ। এতো মানুষ পত্রিকা পড়া বন্ধ করেছেন তার মানে কি তাঁরা অনলাইনের মাধ্যমে পত্রিকা পড়ছেন?  হয়তো তাই হবে। 

হকার যা জানালো তা কিন্তু অন্য কথা।  তার গ্রাহকদের 
সবার কথা পত্রিকায় নাকি পড়ার কিছু নেই। 
পত্রিকাতে কতো সংবাদ থাকে তবুও পড়ার কিছু নেই। 
বিষয়টি  আমার মতো  পাঠককেও বেশ ভাবনায় ফেলেছে। হ্যাঁ অনলাইনের অনেক পাঠক আছেন।  প্রিন্ট মিডিয়ার তাহলে কি হবে?  
তাহলে কি আমরা সামনে প্রিন্ট মিডিয়ার জন্য খারাপ কিছুর আভাস পাচ্ছি? 
যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে ভবিষ্যতে অনেকেই কর্মহীন হয়ে যাবেন। 
আমার মনে হয়,পত্রিকাকে আকর্ষণীয় করতে হবে, বস্তুনিষ্ঠ সত্য সংবাদ দিতে হবে, তাহলে জনগণের কাছে পত্রিকা হয়তো পুনরায় সমাদৃত হবে। পত্রিকার সুদিন কামনা করছি।

সামস জামান

কলামিস্ট