স্বাধীনতা দিবসকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের চাওয়া-পাওয়া

স্বাধীনতা দিবসকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের চাওয়া-পাওয়া
মিলন হোসেন।। শিক্ষার্থী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।।
২৬ শে মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস। এ দিবসকে ঘিরে পূর্ব বাংলার সাড়ে সাত কোটি মানুষের লাল রক্ত খচিত একটি সূর্যের অর্জন ছিলো। বাঙালির মনে স্বাধীন হওয়ার তীব্র ভাসনা শুরু হয়েছে। নতুন করে বিশ্বমানচিত্রে নিজেদের অস্ত্বিত্ব জানান দেওয়ার সোনালী কাব্যের কবি হয়েছেন এ দেশের বীর সন্তানরা। ছিনিয়ে নিয়ে এসেছে পাকিস্তানি দুসরদের হাত থেকে মুক্তিকামী অসংখ্য বাঙালির স্বপ্নকে। 
হাঁটি হাঁটি, পা পা করে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী শেষ লগ্ন অতিক্রম করে আজ আমরা ৫১ তম বছরে পদার্পন করতে যাচ্ছি। লাল - সবুজের পটভূমিতে প্রতিনিয়ত কেউ স্বপ্ন বুনছেন, কেউ বা স্বপ্ন দেখিয়ে যাচ্ছেন আবার কেউ বা স্বপ্নের মতো স্বপ্নরথী হয়ে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচিয়ে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করে যাচ্ছে অবিরত। স্বাধীনতা - সংগ্রাম প্রতিটি জাতির তরুণ তাজা প্রাণকে উজ্জীবিত করে নতুন আঙ্গিকে, নতুন করে স্বপ্ন দেখায় কিংবা মাথা উচু করে লড়াই করতে সাহস জোগায় স্বপ্ন জয়ে। 
স্বাধীনতা শব্দটা কারও সাহস, কারও শক্তি কিংবা কারও নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন। স্বাধীনতা দিবসকে ঘিরে আমরা প্রতি বছরে গোটা বাঙালি জাতির মধ্যে একটা আত্মশক্তির সঞ্চার হয় উদীপ্ত কন্ঠে। মহাবিজয়ের মহানায়ক হয়ে বঙ্গবন্ধুর মতো জাতির শ্রেষ্ঠ বীর সন্তানদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে। তরুণ প্রজন্ম বরাবরের মতো চাই, "স্বাধীনতা দিবসে নতুন করে শপথ নিয়ে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে শেষ রক্ত বিন্দু দিয়ে লড়াই করবে আবারও বীরত্ব গাঁথা বীর সন্তানদের মতো"।
বিজয়ের পঞ্চাশ পেরিয়ে স্বাধীনতা দিবসের ৫১ তম বছরে নতুন করে দেশকে নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে সুকান্ত ভট্টাচার্যের ১৮ বছরের তরুণ প্রজন্মের বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা। এসব শিক্ষার্থীরা চাই মাথা উঁচিয়ে ঐক্যবদ্ধ ভাবে দেশকে নতুন করে বঙ্গবন্ধু স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মানে। নুরুলদীনের মতো আবারো রাজপথে বেরিয়ে জাগো বাহী কন্ঠে জয়বাংলা ধ্বনিতে মুখরিত করবে লোকালয় থেকে সমুদ্র জনপদে। তখন হয়তো শকুনের মতো কোনো দেশদ্রোহী বিশ্বাসঘাতক নীরবে চুপসে যাবে স্বাধীনতা ভয়ানক অগ্নি শিখায় কিংবা রক্তিম সূর্যের তাপদাহে। দেশের সম্মান রক্ষায় কেউ সামান্য আঘাত হানলেও তরুণ প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা কখনো ছাড় দিবে না এ বিষয়ে সকলে ঐক্যবদ্ধ। 
সেই স্বাধীনতার ৫১ তম বছরের লালিত স্বপ্নগুলোকে নিয়ে কথা বলেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের  সাংবাদিক মিলন একুশের চেতনায় একঝাঁক তরুণ মেধাবী শিক্ষার্থীর স্বাধীনতা দিবসের ভাবনা নিয়ে... 
স্বাধীনতা দিবস মানে শহীদের আত্মত্যাগ! 
২৬ মার্চ আমাদের মহান স্বাধীনতা দিবস। পৃথিবীর মানচিত্রে আর্বিভাব ঘটে একটি দেশ, সেই দেশের নাম বাংলাদেশ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসে এ দিনটিকে ঘিরে রচিত হয়েছে। এ দিনের নবীন সূর্যোদয়ের মধ্য দিয়ে আমাদের জাতীয় জীবনে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। এ স্বাধীনতা দিবসের আনন্দোজ্জ্বল মুহূর্তের মধ্যে প্রথমেই যে কথা মনে পড়ে, তা হল এ দেশের অসংখ্য দেশপ্রেমিক শহীদের আত্মদান। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম বিশ্বের স্বাধীনতা অর্জনের ইতিহাসে এক ব্যতিক্রমী ঘটনা। কোনো জাতিকেই জন্মভূমির জন্য এমনভাবে আত্মত্যাগ করতে হয়নি। স্বাধীনতার ইতিহাসে বাঙালি জাতি এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের সূচনা করে। সেই সূচনা শুধু বাংলাদেশের মানুষেরই নয়, বিশ্বের প্রতিটি স্বাধীনতাকামী মানুষের জন্যেই এক অভিনব প্রেরণার উৎস।

মাসুদ আহম্মদ সানি, আইন বিভাগ 
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। 
স্বাধীনতা অর্জন করা অনেক কঠিন! 
২৬ শে মার্চ,আমাদের জাতীয় জীবনে অন্ত্যত
গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। এ দিন রক্তমাখা সূর্যউদয় বাঙালিকে দেখতে হয়েছিল তবে এটি ছিল ভিন্ন এক সূর্য যা সূচিত করেছিল নতুন এক অধ্যায়।স্বাধীন বাংলাদেশের পূর্ব আকাশে ওঠা অভ্যুদয়ের সূর্য। দীর্ঘ নয় মাস লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা পেয়েছিলাম আমাদের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী সকল শহীদদের জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। স্বাধীনতা শব্দটি ছোট্ট হলেও এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য ব্যাপক। শামসুর রহমানের মত বলতে গেলে 'স্বাধীনতা তুমি পিতার কোমল জায়নামাজের উদার জমিন'। তবে এই স্বাধীনতা চাইলেই পাওয়া যায় না এটাকে অর্জন করতে হয় অনেক ত্যাগ তিতিক্ষা সংগ্রাম আর অসংখ্য জীবনের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে। স্বাধীনতার মাধ্যমেই আমরা খুঁজে পেয়েছি আমাদের স্বতন্ত্র আত্মপরিচয় যা আমাদের বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শেখায়। স্বাধীনতা দিবসে জাতি হিসেবে আমাদের জন্য অন্ত্যত গৌরবের ও মর্যাদার।
 

তানজিল আহাম্মেদ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ,জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। 
২৬শে মার্চ আমাদের চেনতা জোগায়! 
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ শেষ রাতে অর্থাৎ ২৬শে মার্চ প্রথম প্রহর বাঙালি জাতির জন্য এক ভয়াবহ সময় ছিল। বাঙালি জাতি এখনও অত্যন্ত মর্মাহতভাবে এই দিনটিকে স্মরণ করে। তৎকালীন পাকিস্তান সরকার নিরস্ত্র বাঙালির উপর স্টিমরোলার চালিয়েছে ওই রাতে। দিগ্বিদিক ছুটতে থাকে মানুষ জিবন বাঁচানোর তাগিদ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় তার বাসভবন থেকে যাতে করে বাঙালি ঐক্যবদ্ধ হতে না পারে। সেই রাতে আবাল-বৃদ্ধ- বনিতা কেউই রক্ষা পায় নাই হানাদার বাহিনীর করাল গ্রাস থেকে। যাকে যেভাবে পেয়েছে হত্যা করেছে।শুধু এক রাতেই তারা ৭০০০ হাজার নিরস্ত্র বাঙালির জীবন কেড়ে নেয়। শুধু তাই নয় ৩০০০ বাঙালি বুদ্ধিজিবীকে ওই রাতে গ্রেফতার করে বাঙালিদের মেধাশুন্য করে দিতে চেয়েছিল পাক বাহিনী। ওই রাত ছিল বাঙালি জাতীর জন্য এক কালো অধ্যায় যার জন্য ২৫শে মার্চ রাতকে কালো রাত বলা হয়। সেই ভয়াল রাত, সেই ভয়াল আওয়াজ আমাদের চেতনা জোগায় এগিয়ে যাওয়ার মাথা নত না করার প্রত্যয় জোগায়। আজ সেই ২৬শে মার্চকে আমরা  আমাদের স্বাধীনতা দিবস হিসেবে লালন করি যাহা আমাদেরকে আরও  সাহসী এবং দৃঢ়প্রত্যয়ী করে তোলে। মাগফিরাত কামনা করি তাদের যারা ওই রাতে শহিদ হয়ে
আমাদের স্বাধীনতা অর্জনে নির্মম হত্যার ইতিহাস হয়ে আছেন।

আলী হায়দার আকাশ, হিসাববিজ্ঞান বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। 
স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে জাতিকে!
প্রত্যকটা বাঙ্গালীর জন্য স্বাধীনতা দিবস একটি আবেগ ও ভালোবাসার দিন।জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুস্পস্তবক অর্পনের মাধ্যমে ২৬ শে মার্চ স্বাধীনতা দিবস উৎযাপন করে থাকি। কিন্তু  এই দিনটি উৎযাপন করার পিছনে রয়েছে আমাদের বিশাল একটা কালো অধ্যায়,যা আমাদের পূর্বপুরুষদের জীবনে রক্তজবার মতো ক্ষত সৃষ্টি করেছিলো। তখনই ২৬ শে মার্চ প্রথম প্রহরে আলোর কান্ডারি হয়ে এগিয়ে আসেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি বোঝতে পারলেন দেশের অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সন্নিকটে তখনই তিনি স্বাধীনতার ডাক দিলেন চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্রের মাধ্যমে। দেশকে স্বাধীনতার বার্তা দিয়ে শত্রু মুক্ত করতে আহ্বান করলেন সকল সাধারন জনতাকে। আজ থেকে ৫১ বছর আগে এই দিনে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়। যার ফলস্বরুপ আমরা পেয়েছি বাঙ্গালী জাতির শ্রেষ্ঠ অর্জন। রবার্ট ফ্রস্ট এর মতে"স্বাধীনতা সর্বদা সাহসী হওয়ার মধ্যই নিহিত থাকে"।এতএব আমাদেরকে স্বাধীনতা শব্দটিকে স্বাধীন করতে হবে। নতুন প্রজন্মকে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে। কারন জন এফ কেনেডির র মতে"দেশের উন্নতির সেরা রাস্তাই হলো স্বাধীনতার রাস্তা"।তাই স্বাধীনতা দিবস আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও গৌরবময় একটি দিন।এবং সকলকে মহান স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা।

তারেক হাসান, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ 
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।