হ-য-ব-র-ল অবস্থায় দিনাজপুর জেলা বিএনপির পূণাঙ্গ কমিটি গঠন!

হ-য-ব-র-ল অবস্থায় দিনাজপুর জেলা বিএনপির পূণাঙ্গ কমিটি গঠন!
ছবি: সংগৃহীত

দিনাজপুর প্রতিনিধি: অ্যাড. মোফাজ্জল হোসেন দুলালকে সভাপতি ও বখতিয়ার আহমেদ কচিকে সাধারন সম্পাদক করে দিনাজপুর জেলা বিএনপি'র  ১৫১ সদস্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় বিএনপির সিনিয়র  যুগ্ন মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাক্ষরিত দিনাজপুর জেলা বিএনপির ১৫১ সদস্য কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়।

পূণাঙ্গ কমিটি প্রকাশের পর জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনেক নেতার অভিযোগ যারা কমিটির মূল পদ গুলোতে স্থান পেয়েছে তারা বিএনপির দূদিনে ছিলেন না কেউ আমেরিকায় থাকেন তবুও তিনি পদ পেয়েছেন।

এই কমিটি নিয়ে ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ঝড় উঠেছে। অনেকে নতুন কমিটির পদ পেয়েও পদত্যাগ করছেন।

দিনাজপুর জেলা বিএনপির নেতা পিনাক চৌধুরি বলেন, দিনাজপুর জেলা বিএনপির কাউন্সিলে অনেক ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে প্রার্থী হয়ে আমি সভাপতি পদে মাত্র ৫ দিন ভোট করে ৭০৪ ভোট পেয়েও মাত্র ৫৮ ভোট কম বেশির কারনে পরাজিত হয়েও সহ-সভাপতি পদে জায়গা পেলাম না ৯১ নং সদস্য হলাম। অথচ অপর এক জন প্রার্থী একই সভাপতি পদে ভোট করে মাত্র ২২০ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েও কিভাবে সহ সভাপতি পদ পেলো বুঝতে পারলাম না ?

আর এমন একজন যে অতীতে কখনো দিনাজপুরে বা দেশের কোথাও বিএনপির রাজনীতির সাথে না থেকেও এবং বতর্মানে বিদেশে বসবাস করেও সহ-সভাপতির পদ কিভাবে পেলো সেটাও বুঝলাম না ?
প্রতিযোগিতা বা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা  মানে কি প্রতিহিংসা ?

দিনাজপুর বিএনপি নেতা মাহবুবুল হক হেলাল তার ফেসবুক টাইম লাইনে স্ট্যাটাস দিয়ে জানান, আমি মাহবুবুল হক হেলাল স্বজ্ঞানে স্বেচ্ছায় দিনাজপুর জেলা বিএনপির সদ্য ঘোষিত জেলা কমিটি'র ৪৬ নং সিরিয়াল- "তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক" পদ থেকে পদত্যাগ করিলাম৷ পদত্যাগ পত্র দুই-একদিনের ভিতরে যথাযথভাবে নেতৃবৃন্দের কাছে পৌছিয়া দিবো।

কারন স্বরুপ আমি যেহেতু সেভাবে আর দল কে সময় দিতে পারবো না, তাছাড়া আমি মনে করি আমার থেকেও অনেক যোগ্যতর নেতাকর্মী সহযোদ্ধা ভাইয়েরা রয়েছেন জেলায়- যিনারা আমার স্থলে অন্তর্ভুক্ত হইলে দল অনেক বেশি শক্তিশালী ও গতিশীল হইবে। আমি পদ বিহীন নগন্য একজন কর্মী হয়েই থাকতে স্বাচ্ছন্দবোধ করবো।

তবে কোনদিন এই দল ছেড়ে যাবো না, আল্লাহর কাছে এটাই সব সময় চাই এবং চেয়ে এসেছি যদি গনতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামে দিনাজপুরে রাজপথে প্রথম কেউ শহীদ/গুম/খুন হয়--"সেটা যেন আমিই হই – আমিন৷

মো: খান নামে এক বিএনপির কর্মী জানান, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম দেশের বিভিন্ন জেলা কমিটির অনুমোদনের সাক্ষর প্রদান করেন কিন্তু দিনাজপুর বিএনপির পূর্নাঙ্গ কমিটি সাক্ষর করেছেন সিনিয়র যুগ্ন মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এর কারনটা কি? আমরা এই কমিটি মানি না, যারা দীর্ঘদিন যাবত রাজপথে লড়াই সংগ্রাম করেছেন কমিটিতে তাদের মূল্যায়ন করা হয়নি।

নতুন কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক কাজী মামুনুর কচি বলেন, নতুন অভিজ্ঞ সমন্বয়ে কমিটি করা হয়েছে। আমরা এই কমিটির মাধ্যমে রাজপথ চাঙ্গা করবো।

নতুন কমিটির দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. মোফাজ্জল হোসেন দুলালকে মুঠো ফোনে একাধিকবার কল করা হলে তিনি ঠোন রিসিভ করেননি।

দিনাজপুর জেলা নব-নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচি বলেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের নিদের্শনায় ত্যাগী ও নতুনদের নিয়ে এবার দিনাজপুর জেলা কমিটি ঘোষনা করা হয়েছে। এতে অনেকে মূলায়িত হয়েছেন। যারা কমিটির মূল পদ গুলোতে আসতে পারেনি তারা নানা রকম তথ্য ছড়াচ্ছেন। আমার আওয়ামী সরকারকে বিতারিত করার জন্য এই নতুন কমিটি রাজপথে লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

কেন্দ্রীয় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন মহাসচিব বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের নিদের্শনায় দিনাজপুর জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষনা করা হয়েছে। সরকার পতনে এই কমিটি গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করবে বলেন প্রত্যাশা করছি।