১৬ পেরিয়ে ১৭তে পা রাখলো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় 

১৬ পেরিয়ে ১৭তে পা রাখলো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় 
ছবিঃ সংগৃহীত

ফারজানা আফরিন ফারজানা।। জবি।।ইতিহাস ঐতিহ্যের ধারক হিসাবে পুরান ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর পারে তথা চিত্তরঞ্জন এভিনিউতে ২০ অক্টোবর ২০০৫ সালে যাত্রা শুরু করে আজকের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। ২০ অক্টোবর এই দিনে ২০০৫ সালে জাতীয় সংসদে গৃহীত ' জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন' ( ২৮ নং আইন) বলে জগন্নাথ কলেজ থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে সাফল্য ও গৌরবের ১৬ বছর পূর্ণ হয়ে ১৭ বছরে পদার্পণ করেছে আজ। 

প্রতিবছর জাঁকজমকপূর্ণ ব্যাপক উৎসাহ, উদ্দীপনা,  বর্ণিল আয়োজন ও আমেজের মধ্য  দিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালিত হয়। এই দিনটিকে ঘিরে ক্যাম্পাসকে বর্ণিল রঙে সাজানো হয়। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উৎসবের আমেজে মেতে উঠে। ২০ অক্টোবর ঈদে মিল্লাদুন নবী (সাঃ) ও লক্ষ্মীপূজা থাকার জন্য ২১ অক্টোবর ভার্চুয়ালভাবে অনলাইনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালিত হবে।

এই বছর সীমিত পরিসরে পালন করা হবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। সকাল ১১ টায় উপাচার্য শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের উদ্বোধন করবেন। তারপরে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পতাকা উত্তোলন করে দুপুর ১২ টায় অনলাইনে ওয়েবিনার করবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় জগন্নাথ কলেজ থেকে রূপান্তরিত হয়ে ১৭ বছরে পদার্পণ করেছে। অনেক সংগ্রাম ও সাফল্যের মাধ্যমে আজকের এই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৮৫৮ সালে ঢাকা ব্রাহ্ম স্কুল নামে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়। এরপর ১৮৭২ সালে বলিয়াটির জমিদার কিশোরীলাল রায় চৌধুরী তার বাবার নামে জগন্নাথ স্কুল নামকরণ করেন। ১৮৮৪ সালে এটি একটি দ্বিতীয় শ্রেণীর কলেজ ও ১৯০৮ সালে প্রথম শ্রেণীর কলেজে রূপ নেয়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও স্বাধীনতা পরবর্তী সকল আন্দোলন, সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই   প্রতিষ্ঠানটি কলেজ আমল থেকে। বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার পর থেকে ক্যাম্পাস আঙ্গিনায় ইতিমধ্যে সুনাম ছড়িয়েছে সারাদেশে। কল, ব্যাংক, বিমা, কর্পোরেট, মাল্টিন্যাশনাল জব সহ সকল স্তরে ভালো করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। 

বিশ্ববিদ্যালয়টি ১১.১১ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠত হলেও বর্তমানে সাড়ে ৭ একর জায়গায় রয়েছে। যার মধ্যে একটি প্রশাসনিক ভবন, কলা ভবন, বিজ্ঞান  ভবন, বিজনেস স্টাডিজ ভবন, সামাজিকবিজ্ঞান ভবন, নতুন নির্মিত ৭ টি ভবনসহ ১০ টি ভবন রয়েছে। একটি শহীদ মিনার ও মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য ' একাত্তরের গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি ' বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থিত। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকালে ৪ টি অনুষদ, ২২ টি বিভাগে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করে।
বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রথম ভাইস চান্সেলর ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. এ, কে, এম সিরাজুল ইসলাম খান। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে রয়েছে ৬ টি অনুষদ, ৩৬টি বিভাগ ও ২টি ইনস্টিটিউট। 

বর্তমানে ৬৮৫ জন শিক্ষক রয়েছে। যাদের মধ্যে অধ্যাপক ১০৭, সহযোগী অধ্যাপক ১৬২, সরকারি অধ্যাপক ৩৩৭ ও, ৭৯ জন প্রভাষক রয়েছে । এছাড়াও  ২১৪ জন কর্মকর্তা ও ২৫৫ জন কর্মচারী আছে। নতুন ৭ তলা ভবনের ৬ তলায়  অবস্থিত গ্রন্থাগারটা বেশ প্রসস্ত। গ্রন্থাগারে বইয়ের সংখ্যা ৩১ হাজার ৩২৬ টি। গ্রন্থাগারে ইন্টারনেট সুবিধাসহ দেশি-বিদেশি বইয়ের সমাহার রয়েছে। বর্তমানে ছাত্রীদের আবাসিক সমস্যা নিরসনে 'বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব' নামে হলের উদ্বোধন করা হয়েছে। তাছাড়া শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবহন সুবিধা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজস্ব একটি মেডিকেল সেন্টার আছে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কেরানীগঞ্জের তেঘুরিয়ায় নতুন ক্যাম্পাসের জন্য নিজস্ব অর্থায়নে ৭ একর জায়গা সহ সর্বোমোট ২০০ একর জায়গায় কাজ চলছে।